বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন অনেক বড় সম্মানের: চীনা রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে তিন বছর ৯ মাস দায়িত্ব পালন করতে পারাকে বড় সম্মানের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন বিদায়ি চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিদায়ি সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় চীন ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। এটিকে বাংলাদেশের জন্য গর্বের মুহূর্ত বলেও উল্লেখ করেন।

বিদায়ি রাষ্ট্রদূত জানান, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরে আসতে আগ্রহী। বাংলাদেশে তার পারিবারিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। তার বাবা বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছিলেন।

সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের দায়িত্ব পালনের জন্য ধন্যবাদ জানান; নতুন দায়িত্বে তার সাফল্য কামনা করেন।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভূমিকার প্রশংসাও করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে ব্যাপক দৃশ্যমান। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর সফল করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের দায়িত্ব পালনের সময়ে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ‘শেয়ার্ড কমিউনিটি’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান পর্যায়ের যোগাযোগের পাশাপাশি পররাষ্ট্র ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়াতে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘২+২’ ব্যবস্থাও শিগ্‌গির চালু হতে যাচ্ছে।

হুমায়ুন কবির ভবিষ্যতে তাদের পথ আবার একসঙ্গে মিলিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের দায়িত্ব পালনকে বাংলাদেশ আনন্দের সঙ্গে স্মরণ করবে বলে অভিহিত করেন।