ফিলিপাইনের জাহাজে চীনা কোস্টগার্ডের ধাক্কা, পাল্টাপাল্টি দোষারোপ

দক্ষিণ চীন সাগরের বিবাদমান সাবিনা শোলের কাছে ফিলিপাইনের একটি জ্বালানি সরবরাহকারী নৌযানে সজোরে ধাক্কা দিয়েছে চীনের কোস্টগার্ড। গত শুক্রবারের এ ঘটনায় ফিলিপাইনের জাহাজটির ডেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের অভিযোগ, মানবিক কাজে নিয়োজিত তাদের ওই বেসামরিক সরকারি নৌযানে চীনা কোস্টগার্ড ইচ্ছা করেই ধাক্কা দিয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে চীন দাবি করেছে, বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ফিলিপাইনের জাহাজটি হঠাৎ সামনে চলে আসায় এ ঘটনা ঘটে।

ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ জানায়, পালাওয়ান উপকূল থেকে ৫৪ নটিক্যাল মাইল দূরে স্থানীয় জেলেদের জন্য জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার সময় ‘বিআরপি ডাতু মাগাত সালামাত’ নৌযানটি সংঘাতের মুখে পড়ে। ভিডিওতে দেখা গেছে, বেলা ১১টার একটু পরেই সংঘর্ষের ঠিক আগে নৌযানের সদস্যরা ‘আঘাতের জন্য প্রস্তুত হও’ বলে চিৎকার করছিলেন। একই সঙ্গে জাহাজের কর্মচারীদের শক্ত হয়ে ধরে থাকার জন্য বলতেও শোনা যায়। ধাক্কায় নৌযানটির সুরক্ষা রেলিং ও ডেক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জাহাজে থাকা নাবিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি।

অন্যদিকে, চীনা কোস্টগার্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, সাবিনা শোয়াল সংলগ্ন নিজ জলসীমায় আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নিয়মমাফিক অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় ফিলিপাইনের জাহাজটিকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছিল। তবে ইচ্ছা করেই তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে এবং হঠাৎ গতি বাড়িয়ে কোস্টগার্ডের জাহাজের সামনে চলে আসে। তাদের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীনা কোস্টগার্ড পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। এর জন্য ফিলিপাইনই দায়ী।

এ ঘটনার পর ম্যানিলায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লি লিপ্টন চীনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর জবাবে সেখানে থাকা চীনা দূতাবাস মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংঘাত সৃষ্টিতে ইন্ধন জোগানোর পাল্টা অভিযোগ তোলে।

এর আগে, গত জুলাই মাসেও দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ স্কারবোরো শোলের কাছে সরকারি জাহাজে জলকামান বর্ষণ এবং এক নৌসেনাকে আঘাতের অভিযোগ তুলেছিল ম্যানিলা। স্কারবোরো শোলে ফিলিপাইনের প্রধান দ্বীপ লুজান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং চীনের হাইনান দ্বীপ থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

অন্যদিকে, সাবিনা শোল দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবাল প্রাচীর। ফিলিপাইন এটিকে ‘এসকোডা শোল’ বলে থাকে। এলাকাটি দেশটির ২০০ নটিক্যাল মাইলের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে পড়েছে বলে জানা গেছে।

চীন দক্ষিণ চীন সাগরের ৯০ শতাংশ নিজেদের বলে দাবি করে। তবে ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামও তাদের নিজস্ব উপকূলীয় প্রাপ্য অংশ দাবি করে আসছে। বিপুল অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে এই অঞ্চলটি বর্তমানে আঞ্চলিক কূটনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের এক প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স