স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকার নেশা যিনি সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছেন, তিনি ঝাং ইমিং। বিশ্বজুড়ে ঝড় তোলা শর্ট-ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটকের মূল কারিগর এই চীনা প্রযুক্তিবিদ। তাঁর হাত ধরেই বদলে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের চেনা রূপ।
চীনের ফুজিয়ান প্রদেশে জন্ম নেওয়া এই শান্ত স্বভাবের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ২০১২ সালে বেইজিংয়ের একটি সাধারণ ফ্ল্যাট থেকে প্রতিষ্ঠা করেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘বাইটড্যান্স’। তখন কেউ ভাবতেও পারেনি, এই প্রতিষ্ঠানটি একদিন ফেসবুক বা গুগলের মতো টেক জায়ান্টদের সমানে সমান টক্কর দেবে।
যেভাবে টিকটক কাঁপাল দুনিয়া :
- চীনের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক রূপ: ২০১৬ সালে চীনে ‘দৌয়িন’ নামে একটি ছোট ভিডিও তৈরির অ্যাপ চালু করেন ঝাং। চীনে তুমুল জনপ্রিয় হওয়ার পর ২০১৭ সালে এটি ‘টিকটক’ নামে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
- Musical.ly অধিগ্রহণ: তরুণদের আরও দ্রুত কাছে টানতে প্রায় ১০০ কোটি ডলারে জনপ্রিয় মিউজিক্যাল অ্যাপ Musical.ly কিনে টিকটকের সাথে যুক্ত করে নেওয়া হয়, যা অ্যাপটিকে রাতারাতি বিশ্বমঞ্চে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়।
টিকটকের আসল জাদু কোথায়?
- অ্যালগরিদমের খেল: আপনার বন্ধুতালিকায় কে আছে তা টিকটকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনি কোন ভিডিওতে কতক্ষণ চোখ আটকে রাখছেন, ঠিক সেটাই এআই দিয়ে মেপে নেয় অ্যাপটি। ফলে স্ক্রিন স্ক্রল করতে থাকলে একের পর এক পছন্দের ভিডিও আসতে থাকে।
- সহজে তারকা হওয়ার সুযোগ: সাধারণ একটি স্মার্টফোন আর পছন্দের অডিও ব্যাকগ্রাউন্ড মিলিয়ে যে কেউই মুহূর্তের মধ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে উঠতে পারেন। জটিল কোনো দক্ষতার প্রয়োজন নেই।
চ্যালেঞ্জ ও পদত্যাগ
অভাবনীয় জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ভূ-রাজনীতি ও তথ্য সুরক্ষার প্রশ্নে টিকটক বেশ কিছু দেশে বড় বাধার মুখে পড়ে। নানা চাপ ও বিতর্কের মধ্যে ২০২১ সালে বাইটড্যান্সের শীর্ষ নির্বাহী (সিইও) পদ থেকে সরে দাঁড়ান ঝাং ইমিং। কর্পোরেট মিটিং আর ফাইল সই করার চেয়ে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ভাবতেই তিনি বেশি ভালোবাসেন।
সিলিকন ভ্যালির বাইরের এক তরুণ প্রোগ্রামার হিসেবে ঝাং ইমিং প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, নিখুঁত অ্যালগরিদম আর সাধারণ মানুষের পছন্দ বুঝতে পারলে পুরো বিশ্বের বিনোদনের ধারণাই বদলে দেওয়া সম্ভব।





