ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠনের লক্ষ্যে নতুন একটি জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রধান সাতটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে এই নতুন জোট গঠনের কথা নিশ্চিত করে গোষ্ঠীগুলো।
‘অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’ নামে এই জোটে আমহারা অঞ্চলের ফানো মিলিশিয়া, ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ), তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) এবং আরও চারটি ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে।
জোটের নেতারা আবি আহমেদের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, গণহত্যা, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও চরম দারিদ্র্য সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইথিওপিয়া ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে ইথিওপিয়ার ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দেশটির ওরোমিয়া ও আমহারা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। একই সঙ্গে উত্তরের তিগ্রাই অঞ্চলেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সেখানে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে একটি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে তিগ্রাই যুদ্ধের অবসান হয়। তবে চুক্তি বাস্তবায়ন ও লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নতুন জোটে ওরোমিয়া, আমহারা ও তিগ্রাইয়ের পাশাপাশি ওগাদেন, আফার এবং বেনিশাঙ্গুল-গুমুজ অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও রয়েছে। এর ফলে ইথিওপিয়ার ১২টি আঞ্চলিক রাজ্যের প্রায় অর্ধেকই এই জোটের সঙ্গে যুক্ত হলো।
তিগ্রাই যুদ্ধের সময় ফানো ফেডারেল বাহিনীর সঙ্গে মিলে টিপিএলএফের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ফানোই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। সরকারের অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাখ্যানের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, ওরোমো লিবারেশন আর্মির (ওএলএ) বিরুদ্ধে ২০১৮ সাল থেকে অভিযান চালিয়ে আসছে ইথিওপিয়ার সরকার।
সম্প্রতি টিপিএলএফ ও প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার মধ্যে কথিত জোট গঠনের খবরের কয়েক মাস পর নতুন এই জোটের ঘোষণা এলো।
এর প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ইথিওপিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। জুলাইয়ে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্যরা এই সংঘাতে যুক্ত হলেও ইথিওপিয়ার সার্বভৌমত্ব নিয়ে তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
এদিকে, গত জুনে ইথিওপিয়ায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংঘাত, দমন-পীড়নের অভিযোগ এবং বিরোধী দলগুলোর সীমিত অংশগ্রহণের মধ্যেই অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে আবি আহমেদের প্রসপারিটি পার্টি পার্লামেন্টে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখে। ফানো ও ওএলএ নির্বাচন ও এর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। তিগ্রাই অঞ্চল ও সেখানকার প্রায় ৬০ লাখ বাসিন্দাকে ওই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছিল। সূত্র: বিবিসি।





