যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনের এই দুরবস্থা কেন?

হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন নিজেদের কৌশলগত আকাশসীমায় আবার শক্তি প্রদর্শন করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটির আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-ওয়ান চালকহীন আকাশযান (ইউএভি) সফলভাবে ধ্বংস করার দাবি করেছে।

ঘটনার পর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই এমকিউ-ওয়ান ড্রোনটি ইরানের সুনির্দিষ্ট ও নিজস্ব প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে এটিকে আকাশে ধ্বংস করে দেয়া হয়।

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই একই অঞ্চলে আরেকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের খবর প্রকাশ পেয়েছিল। ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রস্তুত রাখা স্বদেশী আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি উন্নত মার্কিন ‘অরবিটার’ নজরদারি ড্রোন শনাক্ত করা হয়। ড্রোনটি হরমুজ প্রণালীর ওপর টহল দেয়ার সময় ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে লক্ষ্যবস্তু করে ধ্বংস করে ফেলে। পরপর দুই ড্রোনের ওপর সফল আঘাত হানার ঘটনায় কৌশলগত এই জলসীমায় মার্কিন বিমান ও চালকহীন যানের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণের বার্তা দিল ইরান।

সাম্প্রতিক এই দুই ঘটনার আগে গত সপ্তাহেই আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের খাতায় ৫৩তম মার্কিন এমকিউ-নাইন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছিল। কৌশলগত দ্বীপ কেশম-এর ওপর নতুন প্রযুক্তির একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই এমকিউ-নাইন ড্রোনটি নামানো হয়েছিল। এসব একের পর এক চালকহীন বিমান ভূপাতিত করার সামরিক সাফল্য তেহরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও আকাশসীমার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রমাণের একটি ধারা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের কমান্ড সেন্টকমের দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছে ইরান। সেন্টকম প্রধান ব্র্যাড কুপার সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী তেলবাহী জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিরাপদে পার করে দিচ্ছে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফাজল শেকারচি শনিবার মার্কিন দাবিকে হাস্যকর বলে অভিহিত করে জানান, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি ও উদ্যোগ সম্পূর্ণরূপে তেহরানের হাতেই রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যিক রুটে যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক বা শত্রুতাপূর্ণ সামরিক কর্মকাণ্ড ইরান অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে বলে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।

সূত্র: আল মায়াদিন