ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে অস্ত্র তৈরির জন্য দেশটির আর অন্য কারও সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে দাবি করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালি।
আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের এই উপদেষ্টা ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
আলী বালালি বলেন, ইরানের অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা দেশের সামরিক ও অপারেশনাল প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে এই সক্ষমতা এমন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে যে, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে এখন দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তি ও সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে পারে।
তিনি বলেন, ইরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প এমন একটি পরিণত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এর আর অন্য কারও প্রয়োজন নেই।’
যেকোনও ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব
নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির সক্ষমতা বোঝাতে চিত্রাঙ্কনের উদাহরণ টানেন বালালি।
তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি শেখার বিষয়টি অনেকটা ছবি আঁকা শেখার মতো। একজন শিল্পী যখন ছবি আঁকার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেন, তখন তিনি নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজের পছন্দমতো ছবি তৈরি করতে পারেন।
বালালির ভাষ্য অনুযায়ী, একইভাবে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও কৌশল আয়ত্তে আসার পর ইরান তার নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম।
তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
‘অপারেশনাল প্রয়োজন’কে গুরুত্ব
আইআরজিসির এই কমান্ডার বলেন, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা কোনও নির্দিষ্ট দেশের প্রযুক্তি বা সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠেনি; বরং দেশের নিজস্ব ‘অপারেশনাল প্রয়োজন’কে কেন্দ্র করেই এসব সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে।
অর্থাৎ, সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রের ধরন ও সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয় এবং সেই চাহিদা পূরণের জন্য দেশীয়ভাবে প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা উন্নত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছে। দেশটির কর্মকর্তারা প্রায়ই বলে থাকেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিদেশি সামরিক চাপ মোকাবিলায় নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা প্রয়োজন।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশীয় সক্ষমতার দাবি
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্বেগ রয়েছে। তেহরানের ব্যালিস্টিক ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বিভিন্ন সময়ে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।
তবে ইরান এসব চাপের মধ্যেও নিজেদের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উন্নয়নের দাবি করে আসছে। তেহরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধ দেশটিকে প্রতিরক্ষা শিল্পে আরও বেশি স্বনির্ভর হতে উৎসাহিত করেছে।
বালালির সর্বশেষ মন্তব্যও সেই একই অবস্থানের প্রতিফলন। তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশটি প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম এবং এ ক্ষেত্রে বাইরের কোনও দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়।
তবে তার বক্তব্যে ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতার নির্দিষ্ট পরিমাণ, উৎপাদন হার বা নতুন কোনও অস্ত্র ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা





