ম্যানচেস্টার সিটি বিতর্কে উত্তেজনা, যুক্তরাজ্যকে বার্তা দিল ইউএই

প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার ১১৪টি অভিযোগে অভিযুক্ত ম্যানচেস্টার সিটির সম্ভাব্য শাস্তি এবার বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকটের রূপ নিতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিখ্যাত অর্থনৈতিক সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকার যুক্তরাজ্যকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে—সিটিকে কতটা কঠোর শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে দেশটিতে ইউএই-র ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের পরিমাণ।

ম্যানচেস্টার সিটি এখন প্রিমিয়ার লিগের স্বাধীন কমিশনের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। ইংলিশ ক্লাবটির সামনে বেশ কয়েকটি কঠিন শাস্তির ঝুঁকি ঝুলছে—যার মধ্যে রয়েছে মোটা অঙ্কের জরিমানা, পয়েন্ট কেটে নেওয়া, অবনমন কিংবা প্রিমিয়ার লিগ থেকেই পুরোপুরি বহিষ্কারের মতো চরম সিদ্ধান্ত।

প্রিমিয়ার লিগের সংবিধানে এমন একটি ধারাও রয়েছে, যা কার্যকর হলে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ম্যান সিটির অর্জিত শিরোপাগুলো কেড়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে; মূলত এই সময়টাতেই তারা আর্থিক জালিয়াতিগুলো করেছিল বলে অভিযোগ।

শুক্রবার ম্যান সিটি নিশ্চিত করেছে যে তারা এই শুনানির ফলাফলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই আপিল দায়ের করেছে। তবে ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে চূড়ান্ত রায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। ২০০৮ সালে আবুধাবির এক বিনিয়োগকারী সংস্থা ম্যানচেস্টার সিটির মালিকানা কিনে নেয়। আর তাঁদের বিপুল অর্থায়নের ওপর ভর করেই ইংল্যান্ডের গড়পড়তা একটি দল রাতারাতি ইউরোপীয় ফুটবলের পরাশক্তিতে পরিণত হয়।

ব্লুমবার্গের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ৩ কোটি ৬০ লাখ ইউরোর ( বেশি বিনিয়োগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ম্যান সিটির এই মামলা ঘিরে ইতোমধ্যে ব্রিটেনের রাজনীতিতেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই কেলেঙ্কারির জেরে ক্লাবের মালিকপক্ষ সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলে তা ‘খুবই উদ্বেগজনক’ হবে—এমন মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, যা পরবর্তীতে তিনি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য সরকার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানায়, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং অপরাধের সাথে জড়িতদের অবশ্যই নিজেদের কৃতকর্মের পরিণতি ভোগ করতে হবে।

সূত্র: আনাদোলু