মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ বলেছেন, প্রকৃতিকে রক্ষা করা না গেলে মানুষও বেঁচে থাকতে পারবে না। কোনো রাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তলিয়ে গেলে কী হবে, সেটিও এখন ভাবতে হবে। মানুষ হয়তো বেঁচে থাকবে, কিন্তু দেশটি তো হারিয়ে যাবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর সমাপনী দিনের প্রথম সেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংলাপে সমুদ্র আইন অনুযায়ী উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একটি দেশের রাজনৈতিক সীমানা নির্ধারিত হয় উল্লেখ করে নাশিদ প্রশ্ন তোলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে যদি কোনো দেশের তটরেখা তলিয়ে যায়, তাহলে সেই দেশ কি তার জায়গা বা সীমানা হারাবে? তিনি বলেন, মালদ্বীপের ২০০ নটিক্যাল মাইলের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে এবং ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত তারা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পায়। এসব হিসাব উপকূল বা তটরেখা থেকে নির্ধারিত হয়। এখন সমুদ্রের পানি বেড়ে উপকূল তলিয়ে গেলে কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন।
মোহাম্মদ নাশিদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে পৃথিবী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পৃথিবীর সবকিছুই টাকার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সেই টাকা ব্যবহার করতে হলে আগে তো মানুষকে বেঁচে থাকতে হবে। তাই এমন উন্নয়ন কৌশল প্রয়োজন, যাতে একই ধরনের অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়, কিন্তু গ্রহ ও পরিবেশের ক্ষতি কম হয়।
তিনি বলেন, আমাদের এমন একটি উন্নয়ন কৌশল দরকার, যা সমমানের অর্থনৈতিক ফলাফল দেবে এবং আমাদের গ্রহ বা পরিবেশের ক্ষতি অনেক কম করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের জীবনযাপনের অভ্যাস পরিবর্তনের প্রয়োজন। তবে শুধু গ্রহকে বাঁচানোর জন্য মানুষকে দরিদ্র হয়ে থাকতে বলা যায় না।
সাবেক এই রাষ্ট্র প্রধান আরও বলেন, কিছু দেশ পৃথিবীর সম্পদ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ধনী হয়েছে। আর এর মূল্য দিতে হয়েছে অন্যদের। নেপালের মানুষ এমন কিছু করেনি, যার কারণে দেশটিতে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে। একইভাবে মালদ্বীপের মানুষও এমন কিছু করেনি, যার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এতটা বেড়ে যেতে পারে। ফলে এর খেসারত কাউকে না কাউকে দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা এখনও কেবল নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদেই এই গ্রহকে ইকোসিস্টেমের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। মালদ্বীপসহ যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছে, তারা কোনো দান-খয়রাত চায় না। তারা অনুদান বা সাহায্যও চাইছে না। তারা যে পরিবেশগত সেবা দিয়ে যাচ্ছে, তার বিনিময়ে ন্যায্য পাওনা চায়।
মোহাম্মদ নাশিদ বলেন, আমাদের কারণে নয়, বরং আপনারা যা করেছেন তার কারণে আমরা আমাদের দেশকে হারিয়ে ফেলতে পারি না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যে ধরনের ভবিষ্যৎ বা পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি, এটি তারই একটি বাস্তব রূপ।
জলবায়ু পরিবর্তনকে শুধু অন্যদের সমস্যা মনে করার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি একটি ভুল ধারণা। অনেকে মনে করেন, মালদ্বীপ হারিয়ে যাবে। কিন্তু মালদ্বীপ হারিয়ে যাওয়ার আগেই অন্য দেশের ভূখণ্ড বা দেশ হারিয়ে যেতে পারে। এটি সবার সঙ্গেই ঘটছে। তাই দয়া করে জেগে উঠুন। এতটা নির্বোধ হবেন না, এতটা অজ্ঞ হবেন না। আসুন আমরা পুনর্বিবেচনা করি।





