‘হতেও পারে এই দেখা শেষ দেখা… হতেও পারে এই গানই শেষ গান…!’ প্রখ্যাত গীতিকার প্রিন্স মাহমুদের কালজয়ী সেই গানের সুর আজ যেন আর্জেন্টিনা আর বিশ্ব ফুটবলের বুকে হাহাকার হয়ে বাজছে।
তবে এবার আর কোনো যদি-কিন্তু কিংবা সম্ভাবনার অবকাশ নেই। নীল-সাদা জার্সিতে ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসিকে দেখা আজ সত্যিই শেষ। ৩৯ বছর বয়সে এসে নিজের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে চিরচেনা আকাশি-সাদা ১০ নম্বর জার্সিকে চিরতরে বিদায় বলছেন ফুটবল জাদুকর। বুয়েনস আইরেসের আকাশ-বাতাস আজ বিদায়ের এক ভারী বিষাদে আচ্ছন্ন।
বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার আগের রাতের অভিজ্ঞতা আমাদের সবার জানা। গোপন কান্না আর হাসি-ঠাট্টায় বিদায়টাকে সহজ করার এক অদম্য চেষ্টা চলে সেখানে! বুয়েনস আইরেসে আলবিসেলেস্তেদের ক্যাম্পে এখন ঠিক সেই আয়োজনেই কাটছে সময়।
মেসির দীর্ঘদিনের বন্ধু ও বিশ্বজয়ী গোলকিপার এমি মার্তিনেজ কথা বলতে গিয়ে ক্যামেরার সামনেই নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না! তিনি কেঁদে ফেলে বলেন, আমরা চেষ্টা করবো ও যেন শেষ মুহূর্তটা মন ভরে উপভোগ করতে পারে। তাকে ভালোবাসায় ভাসাবো। তুর্কি সান্তিয়াগো কাস্ত্রো আর মাতিয়াস সুলেদের কাছে তো মেসি কেবল অধিনায়ক নন, তাদের বলের প্রেমে ফেলার প্রেরণা।
মেসির এই মহাকাব্যিক বিদায়কে অমর করে রাখতে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA)।
বেনিনের বিপক্ষে এই ম্যাচে মেসির পরা সেই আইকনিক অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ডটি দেশের অন্যতম সুরক্ষিত জাতীয় জাদুঘরে স্থান পেতে যাচ্ছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেই আর্মব্যান্ডটি আর কখনোই দেশের কোনো খেলোয়াড় পরতে পারবেন না, সেটি হয়ে থাকবে আর্জেন্টিনার এক চিরন্তন জাতীয় স্মৃতিচিহ্ন। এছাড়া মাঝখানে জাতীয় পতাকার সূর্য সংবলিত এবং সোনালি ফন্টের বিশেষ স্মারক জার্সিটি বিদায় শেষে সংরক্ষিত থাকবে মেসির নিজস্ব জাদুঘরে।
জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির এই বিদায় কেবল একটি অধ্যায়ের ইতি নয়, এটি একটি রূপকথার সম্পূর্ণতা। আর্জেন্টিনার হয়ে রেকর্ড ২০৭ ম্যাচে ১২৫টি গোল এবং ৬৮টি অ্যাসিস্টের মালিক তিনি। রয়েছে ১১টি হ্যাটট্রিক।
দীর্ঘ ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে বাংলাদেশকে ভালোবেসে কাতার বিশ্বকাপে দেশকে সোনালী ট্রফি এনে দিয়েছেন এই মহাতারকা। সেই সাথে দুটি কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা জয় করে আর্জেন্টিনাকে ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়ে বিদায় নিচ্ছেন তিনি।





