আফগানিস্তানে তালেবান শাসনে নারী ও মেয়েদের প্রতি আচরণ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) ড্রাফট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের ব্যাটার অলি পোপ।
চলতি বছরের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসার কথা এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের প্রথম আসর।
তবে এতে ইংলিশ ক্রিকেটারদের অংশ নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ড্রাফটে পোপই ছিলেন ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা একমাত্র ক্রিকেটার।
তবে তার সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিচালক রব কি-র সঙ্গে আলোচনার সরাসরি ফল নয়, বরং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলেই জানা গেছে। বিদেশি লিগে খেলতে হলে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) অনাপত্তিপত্রও প্রয়োজন খেলোয়াড়দের।
বিষয়টি নিয়ে টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল পডকাস্টে কথা বলেছেন রব কি। বিবিসির বরাতে তিনি বলেন, ‘আইনগতভাবে খেলোয়াড়দের এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আটকানো কঠিন। বিষয়টি নৈতিক সিদ্ধান্তের, আর খেলোয়াড়দের সঠিক নৈতিক অবস্থান নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিচালক। তার ভাষায়, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি সেখানে খেলতে যেতাম না। তবে সিদ্ধান্তটা খেলোয়াড়ের নিজের।’
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজন করছে না ইসিবি। তবে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলছে ইংল্যান্ড।
আফগানিস্তানে নারীদের প্রতি আচরণের বিরোধিতা করে রব কি বলেন, ‘আফগানিস্তানে নারীদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, আমি তা সমর্থন করি না। সেখানে যেভাবে সবকিছু চলে, তার সঙ্গেও আমি একমত নই। তাই আমি সেখানে খেলতে যেতাম না।’
তবে ড্রাফটে নাম রয়েছে ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার ডেভিড মালান, মঈন আলী, জেমস ভিন্স ও জেমস রিউর। মালান মনে করেন, এ ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে হয়। একদিকে ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান, অন্যদিকে জীবিকা অর্জনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হয় তাদের।
মালান বলেন, ‘একজন খেলোয়াড়ের জন্য বিষয়টি কঠিন। কারণ, নৈতিকভাবে যা সঠিক এবং আইন অনুযায়ী যা বৈধ, তার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।’
এ ধরনের বিষয়ে ক্রিকেট বোর্ডগুলোর স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত বলেও মনে করেন মালান। তার প্রশ্ন, ইংল্যান্ড যখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলছে, তখন ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি খেলোয়াড়ের ওপর কেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায় বর্তাবে?





