এআই দিয়ে লেখা বইয়ের জন্য ফ্রান্সে নতুন সাহিত্য পুরস্কার চালু

চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনাই দিয়ে লেখা বইয়ের জন্য নতুন একটি সাহিত্য পুরস্কার চালু করা হয়েছে। ফ্রান্সে প্রি পাস্কাল দ্য লিতেরাত্যুর আইএ নামের এই প্রতিযোগিতায় এআই প্রযুক্তির সহায়তায় যৌথভাবে লেখা পাণ্ডুলিপি আহ্বান করা হয়েছে।

পুরস্কার বিজয়ীর বইটি প্রকাশের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে আয়োজকদের পক্ষ থেকে।

প্রতিযোগীদের ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার শব্দের মধ্যে একটি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি জমা দিতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে লেখাটি তৈরিতে কোন এআই মডেল ও কী ধরনের প্রম্পট ব্যবহার করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্যও জানাতে হবে।

চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনাই ও লামা-র মতো প্রধান সব ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলই এতে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকেই লেখকরা এতে অংশ নিতে পারবেন, তবে পাণ্ডুলিপি অবশ্যই ফরাসি ভাষায় হতে হবে।

ফরাসি বহুমুখী প্রতিভাবান পণ্ডিত ব্লেইজ পাস্কালের নামানুসারে এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে। তিনি বিশ্বের প্রথম দিককার একটি যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর উদ্ভাবনে সহায়তা করেছিলেন। এছাড়া তিনি ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো ‘পঁসে’। পোপ ফ্রান্সিস বইটির ‘দার্শনিক গভীরতা ও সাহিত্যিক মাধুর্যের’ প্রশংসা করেছিলেন।

পুরস্কারের শর্তাবলিতে ফিকশন জমা দেওয়ার কথা বলা হলেও, একটি বিশেষ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। জমা দেওয়া লেখায় এমন কিছু থাকতে হবে যা মানবজাতির জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো নৈতিক, সামাজিক বা পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

পুরস্কারটি প্রবর্তন করেছেন ফিলিপ রদ্রিগেজ, আলব্যাঁ সেরভিয়ঁ ও জিল মঁত্রে। তারা তিনজনই প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা।

রদ্রিগেজ ব্যবসায়িক একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাভোল্টা-র প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে তাকে ‘ইউরোপীয় ক্রিপ্টো ও ব্লকচেইন শিল্পের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সেরভিয়ঁ একজন ডিজিটাল মিডিয়া উদ্যোক্তা ও এলজিবিটিকিউ+ বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘তেতু’-র সাবেক চেয়ারম্যান।

আর মঁত্রে একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। দর্শনে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই ব্যক্তি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও প্যারিস ১ পঁতেওঁ-সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। এছাড়া মঁত্রে অনলাইন ভোটিং প্ল্যাটফর্ম ইলেক্টিস-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা।

চলতি বছর বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারের চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগী ও বিজয়ীদের বিরুদ্ধে লেখায় এআই ব্যবহারের সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই তীব্র বিতর্ক চলছে। এর মধ্যে কমনওয়েলথ ছোটগল্প পুরস্কার, কেইন পুরস্কার ও ফ্রান্সের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার প্রি গোঁকু-র নামও রয়েছে। এসব বিতর্কের মধ্যেই প্রি পাস্কাল চালুর ঘোষণা এলো।

গত মঙ্গলবার থেকে প্রি পাস্কালের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত।

ডিসেম্বরের শুরুতে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে ১০টি বইয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হবে। পাঁচ থেকে ছয়জন লেখক, সমালোচক, সাংবাদিক, দার্শনিক ও প্রকাশকের সমন্বয়ে জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। নভেম্বরের শুরুতেই এই বিচারকদের নাম ঘোষণা করা হবে।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান