কর্মীদের নিজস্ব ধারণা থেকে নতুন পণ্য তৈরির ১৭ বছরের পুরোনো উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘দ্য গ্যারেজ’ গুটিয়ে নিচ্ছে মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পরীক্ষামূলক কাজ এখন কর্মীদের দৈনন্দিন কাজেরই অংশে পরিণত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৫টি অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা গ্যারেজ স্পেস বা অবকাঠামো বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি মাইক্রোসফটের বার্ষিক ‘গ্লোবাল হ্যাকাথন’ আয়োজনের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রেডমন্ডে একটি ছোট পরীক্ষা হিসেবে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরে তা ভারত, চীন, কানাডাসহ ১৫টি অঞ্চলে সম্প্রসারিত হয়। কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ নির্দেশনার বরাত দিয়ে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গিকওয়্যার প্রথম এ খবর প্রকাশ করে।
মাইক্রোসফটের মুখপাত্র জানিয়েছেন, অবকাঠামোগুলোর ব্যবহার পর্যালোচনা করে কিছু গ্যারেজের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে রেডমন্ডের প্রধান কার্যালয়সহ ঠিক কোনগুলো বন্ধ হবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। ২৩ অক্টোবর থেকে কিছু স্থানে বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে।
২০১৪ সালে সত্য নাদেলা মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি ব্যাপক পরিচিতি পায়। সে বছর আয়োজিত প্রথম গ্লোবাল হ্যাকাথনে ৮০টি দেশ থেকে ১১ হাজার কর্মী অংশ নেন। দ্য গ্যারেজ থেকে বেশ কিছু আলোচিত পণ্য তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিহীনদের চারপাশের পরিবেশ বুঝতে সহায়তাকারী ‘সিয়িং এআই’, বিশেষায়িত গেমিং ডিভাইস ‘এক্সবক্স অ্যাডাপটিভ কন্ট্রোলার’ এবং এক মাউস ও কি-বোর্ড দিয়ে একাধিক কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণের সফটওয়্যার ‘মাউস উইদাউট বর্ডারস’।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি অন্যান্য খাতে খরচ কমাচ্ছে মাইক্রোসফট। কর্মীদের ধারণা, ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত।
গত জানুয়ারিতে এআই-ভিত্তিক শিক্ষার দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে কয়েকটি দেশে কর্মীদের লাইব্রেরি ও রেডমন্ডের দর্শনার্থী কেন্দ্র বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানটি। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, উদ্ভাবনের নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে তারা দ্য গ্যারেজের ঐতিহ্য ধরে রাখতে চায়; তবে কীভাবে তা করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।





