সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সুরির (২৮) মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে চাননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। পরবর্তীতে পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নৌ পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার তাহসিফের দুই হাত মাথার সামনে মুষ্টিবদ্ধ, পেট ফোলা এবং নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। তবে বাহ্যিকভাবে তার শরীরে অন্য কোনো সুস্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমি এই বিষয়ে এখন কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।
কারণ, একটি প্রাথমিক তদন্ত হতে হবে আর লাশের ময়নাতদন্ত হচ্ছে। তারপর আমরা সব বিষয় জেনে কথা বলব।” এর আগে সকালে একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া, পরবর্তীতে বিমান বাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণ নিয়ে আলোচনায় ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ। গত জুলাইয়ে এক পডকাস্টে বিমান বাহিনী থেকে চাকরি যাওয়ার পেছনে ওই ভিডিওর সংযোগ থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
তবে একই পডকাস্টে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনকে তিনি ‘অপপ্রচার’ বলে নাকচ করেছিলেন। পূর্বে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরও (আইএসপিআর) স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যে, কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পর্কের কারণে নয়, বরং প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আলোকেই তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছিল।





