ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে তারা ভোট দেন, পার্লামেন্টের আইন প্রণেতাদের নির্বাচিত করেন এবং এমনকি কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তা সত্ত্বেও দেশের ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় জুড়েই ইসরায়েলের আরব দলগুলোকে ক্ষমতার একদম প্রান্তসীমায় রাখা হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে।
সম্প্রতি সমাপ্ত ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট কিংবা বিরোধী পক্ষ; কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে কারা পরবর্তীতে সরকার গঠন করবে, তা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি এখন আরব আইন প্রণেতাদের হাতে। তবে এটি কেবল একটি নির্বাচনের গণিতের গল্প নয়; এটি ফিলিস্তিনি পরিচয়, সমান নাগরিকত্ব এবং একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে সংজ্ঞায়িত দেশে আরব প্রতিনিধিরা আদৌ প্রকৃত ক্ষমতার চর্চা করতে পারেন কিনা; তা নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে চলে আসা গভীর বিতর্কের অংশ।
কাদের প্রতিনিধিত্ব করেন তারা?
ইসরায়েলের আরব রাজনৈতিক দলগুলো মূলত ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর যেসব ফিলিস্তিনি দেশের সীমানার ভেতরেই থেকে গিয়েছিলেন, বর্তমান আরব নাগরিকরা তাদেরই বংশধর। তারা দখলকৃত পশ্চিম তীর এবং গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের চেয়ে আলাদা, কারণ গাজা ও পশ্চিম ব্যাংকের ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।
ইসরায়েলের আরব সমাজ মুসলিম, খ্রিস্টান এবং দ্রুজ সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গঠিত। অবশ্য দ্রুজদের নিজস্ব রাজনৈতিক ধারা রয়েছে এবং তাদের অনেকেই ঐতিহ্যগতভাবে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে সমর্থন করে থাকেন। এদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কোনোভাবেই একরকম নয়। কয়েকটি দল ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদকে ধারণ করে এবং আরব নাগরিকদের একটি জাতীয় সংখ্যালঘু হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানায়। কিছু দল পরিচালিত হয় ধর্মীয় ভাবধারায়। আবার অন্য কিছু দল দেওয়ানি অধিকার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আরব-ইহুদি যৌথ সহযোগিতার আহ্বান জানায়।
তিন রাজনৈতিক ধারা
ইসরায়েলের শুরুর দিকের প্রথম কয়েক দশকে আরব প্রতিনিধিত্ব ছিল মূলত ডেভিড বেন-গুরিয়নের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ‘মাপাই’ দলের অধীনস্থ বা তাদের অনুগত তালিকার মাধ্যমে। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত আরব নাগরিকরা সামরিক প্রশাসনের অধীনে ছিলেন এবং তাদের চলাচলেও সীমাবদ্ধতা ছিল। সে সময়কার আরব প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়ী হলেও তাদের পৃষ্ঠপোষক ইহুদি দলগুলোর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ছিল ইসরায়েলি কমিউনিস্ট পার্টি। এই রাজনৈতিক দলটিতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় আরব ও ইহুদি কর্মীরা একযোগে কাজ করতেন। পরবর্তীতে এই আন্দোলনে বিভাজন দেখা দিলে নতুন কমিউনিস্ট তালিকা ‘রাকাহ’ আরব ভোটারদের মধ্যে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলে। ১৯৭৭ সালে রাকাহ গঠন করে ‘হাদাশ’ বা ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ফর পিস অ্যান্ড ইকুয়ালিটি, যা আজ অবধি একটি প্রধান আরব-ইহুদি জোট হিসেবে টিকে আছে।
ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদ নিজেও একটি বড় রাজনৈতিক প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছিল। ১৯৬০-এর দশকে ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী দল ‘আল-আরদ’ নিষিদ্ধ করা হয়, তবে পরবর্তীতে স্বাধীন কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বালাদ’ বা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স ১৯৯৬ সালে নেসেটে প্রবেশ করে। দলটির মূল বক্তব্য ছিল, আরব নাগরিকদের একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় সংখ্যালঘু হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ইসরায়েলের জাতীয় পরিচয়কে চ্যালেঞ্জ না করে প্রকৃত সমতা অর্জন করা সম্ভব নয়।
পরবর্তীতে ইসলামপন্থী আন্দোলন থেকে জন্ম নেয় ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা ‘রাম’। এই দলটি মূলত ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক কল্যাণ ও সমাধান এবং আরব সম্প্রদায়ের ব্যবহারিক সুযোগ-সুবিধা আদায়ের ওপর বেশি জোর দেয়। আদর্শিক এই বিভেদগুলো আজ অবধি রাজনৈতিক জোট গঠন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সাথে সহযোগিতার প্রশ্নে প্রতিটি দলের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
ইন্তিফাদা ও ২০০০ সালের অক্টোবরের ঘটনাপ্রবাহ
১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ব্যাংক ও গাজায় শুরু হওয়া প্রথম ইন্তিফাদা ইসরায়েলি আরব রাজনীতিতে এক বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসে। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের কাছে তাদের জাতীয় পরিচয় এবং দখলকৃত ভূখণ্ডের ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি প্রকাশের বিষয়গুলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মূল আলোচনায় চলে আসে। এটি একই সাথে ইহুদি দলগুলোর অধীনস্থ বা অনুগত তালিকার চেয়ে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন আরব রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সেই সময় আরব নাগরিকদের একটি অত্যন্ত নাজুক ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হচ্ছিল। একদিকে তারা ইসরায়েলের নাগরিক ছিলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন; অন্যদিকে অনেকেই আবার ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাথে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। সেই গণঅভ্যুত্থানের জবাবে কোনো একক আরব প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়নি। এটি জাতীয়তাবাদী ধারার সমর্থক, আরব-ইহুদি যৌথ অংশীদারিত্বের পক্ষাবলম্বী এবং যারা ইসরায়েলি কাঠামোর ভেতর থেকেই পরিবর্তন চেয়েছিলেন, এই তিন পক্ষের মধ্যে দূরত্বকে আরো বাড়িয়ে দেয়। ১৯৯০-এর দশকের অসলো শান্তি চুক্তি সংঘাত সমাধানের আশা জাগালেও ইসরায়েলের ভেতরে নিজেদের অবস্থান নিয়ে অনেক আরব নাগরিককেই অসন্তুষ্ট করে রেখেছিল।
২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ইন্তিফাদা রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ককে আরো সংকটাপন্ন করে তোলে। অক্টোবরের শুরুর দিকেই প্রতিবাদের আগুন আরব অধ্যুষিত শহর ও গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিক্ষোভকারীরা দখলকৃত ভূখণ্ডের ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে চরম সংহতি প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলি পুলিশ তীব্র বলপ্রয়োগ করে, যার ফলে ১৩ জন আরব নাগরিক নিহত হন।
অনেকের কাছেই এই প্রাণহানির ঘটনাটি সেই রাষ্ট্রের সাথে একীভূত হওয়ার সীমাবদ্ধতাকে উন্মোচিত করে দেয়। যা তাদের সাথে ধারাবাহিকভাবে অন্যায় আচরণ করে আসছিল। এর ফলে পুলিশ ও সরকারের ওপর অবিশ্বাস চরম আকার ধারণ করে। এমনকি এর প্রভাব পড়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের ওপরও। ইসরায়েল ডেমোক্রেসির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যকার চারটি নির্বাচনে আরব ভোটারদের উপস্থিতির হার কমে গড়ে ৫৭ শতাংশে নেমে আসে, যেখানে জাতীয়ভাবে ভোটের গড় ছিল ৬৬ শতাংশ। সরকারি নীতি নিয়ে চরম ক্ষোভ এবং আরব প্রতিনিধিদের ক্ষমতার অভাবের হতাশা থেকে নির্বাচন বর্জনের ডাক ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
যৌথ তালিকা ও ক্ষমতার প্রশ্ন
২০১৫ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ঐক্যবদ্ধতার প্রয়োজন থেকেই জন্ম নেয় ‘জয়েন্ট লিস্ট’। জাতীয়তাবাদ, ধর্ম এবং ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তীব্র মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও হাদাশ, বালাদ, তা’আল এবং রাম একত্রে একই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ায়। ২০১৫ সালের নির্বাচনে যৌথ তালিকা ১৩টি আসন লাভ করে। ২০২০ সালের মার্চে চারটি দল আবারও একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়ে রেকর্ড ১৫টি আসনে জয় লাভ করে পার্লামেন্টের তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।
তবে কেবল আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেই রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জিত হয় না। ২০২০ সালে যৌথ তালিকা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিনের কাছে বেনি গ্যান্টজকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু আরব আইন প্রণেতাদের ওপর নির্ভর করার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত বিতর্কিত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত কোনো বিকল্প সরকার গঠিত হতে পারেনি। এই ঘটনাটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকটকে স্পষ্ট করে তোলে: আরব দলগুলো ‘কিংমেকার’ হওয়ার সক্ষমতা রাখলেও ইহুদি নেতৃত্বাধীন দলগুলো তাদের গ্রহণযোগ্য বা বৈধ অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করতে সব সময় দ্বিধা প্রকাশ করেছে।
সরকারে আরব দলের অংশগ্রহণ
২০২১ সালে মানসুর আব্বাসের দল ‘রাম’ যৌথ তালিকা থেকে বের হয়ে একটি ভিন্ন ও বাস্তবমুখী কৌশল গ্রহণ করে। আব্বাস যুক্তি দেন যে, সর্বদা বিরোধী দলে থাকার চেয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেওয়াই আরব নাগরিকদের জন্য বেশি কল্যাণকর হবে। পরবর্তীতে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের গঠিত নতুন সরকারি জোটে যোগ দেয় রাম। এর মাধ্যমে বহু দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো স্বাধীন আরব রাজনৈতিক দল ইসরায়েলি শাসক জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়।
রাম তাদের অংশগ্রহণের বিনিময়ে আরব এলাকাগুলোতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সহিংসতা দমন, আবাসন জটিলতা নিরসন এবং পাবলিক সার্ভিস বা সরকারি পরিষেবায় বৈষম্য দূর করার জন্য বিপুল পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ ও নীতিগত পরিবর্তনের জন্য দর কষাকষি করে। তবে সমালোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ইসরায়েলের ইহুদি বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করা একটি সরকারের সঙ্গে যুক্ত হলে ফিলিস্তিনিদের জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে আপস করতে হতে পারে। যদিও সমর্থকদের সাফ কথা ছিল, একমাত্র সরকারে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে একটি আরব দল সরকারে যোগ দিতে পারে, তবে ইহুদি দলগুলোর সাথে কতদূর পর্যন্ত সমঝোতা করে নিজস্ব আদর্শে অটল থাকা সম্ভব, তার সীমা এটি নির্ধারণ করে দিতে পারেনি।
৭ অক্টোবর পরবর্তী বাস্তবতা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণে হামাসের অভূতপূর্ব হামলা ইসরায়েলকে পুরোপুরি বদলে দেয়। ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় এক ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে, যা গাজার বিস্তৃত এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে, হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে এবং এক চরম মানবিক সংকট সৃষ্টি করে।
হামলা-পরবর্তী এই পরিস্থিতি ইসরায়েলি আরব নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত জটিল ও বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে। তারা একদিকে এক মারাত্মক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশের নাগরিক হিসেবে বসবাস করছিলেন, অন্যদিকে গাজার ফিলিস্তিনিদের মানবিক কষ্টে গভীরভাবে সমব্যথী ছিলেন। তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের ইসরায়েলি সমাজের শোক ও ভয়, যুদ্ধ নিয়ে ক্ষোভ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সদয় আচরণের উদ্বেগের মধ্যে চরম সতর্কতার সাথে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে। এই সময়ে মতপ্রকাশের সুযোগ আশঙ্কাজনকভাবে সংকুচিত হয়ে আসে; সংহতি প্রকাশ বা কোনো প্রকার বক্তব্য দেওয়ার কারণে বহু আরব নাগরিক ও অধিকারকর্মীকে সরাসরি তোপের মুখে পড়তে হয়।
এই পরিস্থিতিতে রাম-এর বাস্তবমুখী কৌশল সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে। যুদ্ধের বাস্তবতায় নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী ইস্যু থেকে আলাদা রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবুও আরব শহরগুলোতে সহিংসতা ও সংগঠিত অপরাধ, আবাসনের অভাব, নগর পরিকল্পনার বিধিনিষেধ এবং সরকারি সম্পদে প্রবেশাধিকারের মতো দৈনন্দিন সমস্যাগুলো আগের মতোই অপরিবর্তিত থেকে যায়। ৭ অক্টোবরের ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে মুছে দেয়নি বরং তা আরো তীক্ষ্ণ ও সুস্পষ্ট করে তুলেছে।
প্রান্তিক অবস্থান থেকে ‘কিংমেকার’?
যদি কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়, তবে আরব আইন প্রণেতারাই নির্ধারণ করবেন পরবর্তীতে কে দেশ শাসন করবে। রাম দলটির পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, আরব নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট দাবি ও চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতি পেলে তারা যেকোনো জোটে যোগ দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে হাদাশ ও তা’আল দল দুটি প্রধানত সরকারের বাইরে থেকেই নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার নীতি মেনে চলছে। আর বালাদ ইসরায়েলের মূলধারার রাজনীতির বিরুদ্ধে তুলনামূলক কঠোর ও মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করেছে। যেকোনো সম্ভাব্য রাজনৈতিক চুক্তি শেষ পর্যন্ত আসন সংখ্যা, দলগুলোর শর্তাবলী এবং হবু প্রধানমন্ত্রী তাদের ভোটের ওপর নির্ভর করতে ইচ্ছুক কিনা তার ওপর নির্ভর করবে।
তবে ইতিহাস সতর্ক করে দেয় যে, কেবল পার্লামেন্টের আসন সংখ্যার হিসাবকে প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির সাথে মিলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ভোটারদের মূল নীতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে আসন সংখ্যাকে বাস্তবে জনগণের জন্য কার্যকর পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। আর ইসরায়েলি রাজনৈতিক সংস্থাপনের মূল প্রশ্ন হলো, তারা কি আরব প্রতিনিধিদের প্রকৃত রাজকীয় অংশীদার হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত, নাকি কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের প্রয়োজনে সাময়িক ভোট হিসেবে তাদের বিবেচনা করবে।
সূত্র: এনডিটিভি





