রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ৩৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, পোশাকশ্রমিক পরিচয়ে নাশকতার পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ সদস্যকে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।
এদিকে, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ চলছে। ৩১ অক্টোবর শুরু হওয়া এ আন্দোলন মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে পৌঁছেছে। আন্দোলন ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
গত রোববার (১ নভেম্বর) মিরপুরের ১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
পরদিন সোমবার (২ নভেম্বর) শ্রমিকেরা আবারও রাজপথে নামলে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ওই দিন ১১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। একই দিনে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে আরও ২৩ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও প্রকাশ করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মিরপুর-১১ নম্বরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা অব্যাহত থাকে। এতে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়।
শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে।





