তিউনিসিয়ায় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ভবন বন্ধ করে দিলো পুলিশ

FILE PHOTO: A man stands outside the Supreme Judicial Council building in Tunis, Tunisia February 6, 2022. REUTERS/Zoubeir Souissi

ঢাকা: তিউনিসিয়ায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা তত্ত্বাবধানকারী সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ভবন বন্ধ করে দিয়েছে দিয়েছে দেশটির পুলিশ। একইসাথে সংস্থাটিতে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবনটিতে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে।

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ভেঙে দেয়ার একদিন পরেই সোমবার তিউনিসিয়ার পুলিশের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

এর আগে রোববার ‘দুর্নীতি’ ও ‘পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সংস্থাটি ভেঙে দেয়ার ঘোষণা আসে।

সংস্থাটি তিউনিসিয়ায় স্বাধীনভাবে ভূমিকা পালন করা অল্প কিছু রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি ছিলো। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ভেঙে দেয়ার মাধ্যমে দেশটিতে বিচারকদের স্বাধীনভাবে বিচারকাজ চালানোর সক্ষমতা নিয়ে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান ইউসুফ বুজাখির বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সংস্থাগুলোকে অকার্যকর করার পর্যায়ে পৌঁছেছে। যা হচ্ছে তা প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ।’

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে ইউসুফ বুজাখির বলেন, এই কাউন্সিল ভেঙে দেয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে কোনো বৈধ আইনি বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সুযোগ দেয় না।

এদিকে তিউনিসিয়ান জাজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান জানিয়েছেন, তারা বিচার বিভাগ ও আদালতের মর্যাদা রক্ষায় পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করছেন।

প্রেসিডেন্ট সাইদের পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে তিউনিসিয়ার বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আননাহদার প্রধান ও দেশটির স্থগিত পার্লামেন্টের স্পিকার রশিদ গানুশি রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিচারকদের সাথে সংহতি প্রকাশ করছেন।

এছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও সাইদের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।

গত বছর ২৫ জুলাই করোনা পরিস্থিতিতে তিউনিসিয়ায় সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জেরে আকস্মিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর রাতে প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদ দুই বছর আগে নির্বাচিত পার্লামেন্ট ৩০ দিনের জন্য স্থগিত, প্রধানমন্ত্রী হিশাম মাশিশিকে বরখাস্ত ও দেশের নির্বাহী ক্ষমতা নিজের হাতে নেয়ার ঘোষণা দিয়ে আদেশ জারি করেন।

পরে ২৩ আগস্ট ‘রাষ্ট্রের জন্য হুমকি’ বিবেচনায় পরবর্তী আদেশ দেয়া না পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত রাখার আদেশ দেন প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদ।

অপরদিকে ২২ সেপ্টেম্বর জারি করা এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের কিছু অংশ স্থগিত করার মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা জোরদার করেন সাইদ।

তিউনিসিয়ার রাজনৈতিক দলগুলো এই আদেশকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ বলে অভিযোগ করে আসছে।

২০১১ সালে আরব বসন্তের সূচনাকারী দেশ তিউনিসিয়ায় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জেরে ২৪ বছর দেশটি শাসন করা একনায়ক জাইন আল আবেদীন বিন আলী ক্ষমতাচ্যুৎ হন। এর পর থেকেই গত দশ বছর ভঙ্গুর অবস্থা সত্ত্বেও আরব বিশ্বের একমাত্র গণতান্ত্রিক শাসন উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে চালু ছিলো। সূত্র : আলজাজিরা।

প্রভাতনিউজ/এবিএস