বিশ্বকাপের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। ইতোমধ্যে নিজেদের ব্যাগ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রোনালদো, মেসি ও নেইমারদের মতো বড় তারকারা। তবে ৪৮ দলের এই বিশাল টুর্নামেন্ট মিস করবেন ফুটবল বিশ্বের বেশকিছু তারকা ফুটবলার।
ইনজুরি কিংবা নিজ দেশের বাছাইপর্ব পার হতে না পারার ব্যর্থতায় এই মহাযজ্ঞে দেখা যাবে না বেশ কিছু চেনা মুখ।
আসুন জেনে নেওয়া যাক সে সব ফুটবলারদের নাম—
এস্তেভাও ও রদ্রিগো (ব্রাজিল)
ডান হাঁটুর মিনিসকাস এবং এসিএল ছিঁড়ে যাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গার রদ্রিগো। গত মার্চে রিয়ালের হয়ে খেলার সময় চোট পাওয়া এই তারকা ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকবেন।
এছাড়াও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল বিস্ময় বালক, ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার এস্তেভাও চেলসির হয়ে খেলার সময় গ্রেড-ফোর হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে গেছেন। কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করা এই তরুণ সেনসেশন চেলসির হয়ে প্রথম মৌসুমেই দারুণ নজর কেড়েছিলেন।
খভিচা কভারাতসখেলিয়া (জর্জিয়া)
ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম আতঙ্ক ছড়ানো এই উইঙ্গারকে উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে দেখা যাবে না। কারণ, তার দেশ জর্জিয়া আগামী জুন-জুলাইয়ের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়েছে।
চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করা এই উইঙ্গার এখনও বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখার সুযোগ পাননি। জর্জিয়ার হয়ে তার সবশেষ বড় টুর্নামেন্ট ছিল ইউরো ২০২৪, যেখানে তারা শেষ ১৬ পর্যন্ত খেলেছিল।
রবার্ট লেভানডভস্কি (পোল্যান্ড)
গত ৩১ মার্চ পোল্যান্ডের শেষ বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়েন লেভানডভস্কি। অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে পোল্যান্ড এবারের বিশ্বকাপের টিকিট হাতছাড়া করেছে।
এই ব্যর্থতার পর ৩৭ বছর বয়সী বার্সেলোনা স্ট্রাইকার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিলেও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি।
পোল্যান্ডের হয়ে রেকর্ড ১৬৫ ম্যাচে রেকর্ড ৮৯টি গোল করা এই কিংবদন্তি ক্যারিয়ারে মাত্র দুবার বিশ্বকাপ খেলেছেন, যার মধ্যে ২০২২ সালের শেষ ১৬-তে ওঠাই ছিল তার সেরা সাফল্য।
হুগো একিতিকে (ফ্রান্স)
ফ্রান্সের এই ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপ অভিষেকের স্বপ্ন চূর্ণ হয়ে যায় গত এপ্রিলে, যখন লিভারপুলের হয়ে পিএসজি-র বিরুদ্ধে খেলার সময় তিনি অ্যাকিলিস টেন্ডন ইনজুরিতে পড়েন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অ্যানফিল্ডের মাঠ থেকে স্ট্রেচারে করে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন তিনি। ইনজুরির কারণে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে লিভারপুলে চলতি মৌসুমে ১৭ গোল করা এই তারকাকে।
জানলুইজি দোন্নারুম্মা ও সান্দ্রো তোনালি (ইতালি)
টানা তৃতীয়বারের মতো ইতালির বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া ফুটবলবিশ্বের জন্য এক বড় ধাক্কা। ফলে আজ্জুরিদের সেরা গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা এবং মিডফিল্ডার তোনালির মতো বিশ্বমানের প্রতিভা ছাড়াই মাঠে গড়াবে এবারের আসর।
প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে প্রথম সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ মিস করার লজ্জাজনক রেকর্ড গড়ল ইতালি। ইতালীয় মিডিয়া একে ‘বিশ্বকাপের অভিশাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ভিক্টর ওসিমেন ও আদেমোলা লুকম্যান (নাইজেরিয়া)
ইতালির পর এবারের বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে না পারা সবচেয়ে বড় ফুটবল পরাশক্তি হলো নাইজেরিয়া। বাছাইপর্বের চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর আফ্রিকান প্লে-অফে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে চূর্ণ হয় ‘সুপার ঈগলস’দের ডানা।
ফলে ফ্যানরা মিস করবেন আফকন (এএফসিওএন) ২০২৫-এর সেরা খেলোয়াড় লুকম্যান এবং আফ্রিকার অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ওসিমেনের গতি ও ড্রিবলিং। টানা দুই বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার অনুপস্থিতি গত ৩৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম।
জাভি সিমন্স (নেদারল্যান্ডস)
টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচের সময় এসিএল ইনজুরিতে আক্রান্ত হন ২৩ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জাভি সিমন্স। রোনাল্ড কোম্যানের ডাচ স্কোয়াডের অন্যতম প্রধান এই চালিকাশক্তিকে ছাড়াই ডাচদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে হবে।
ব্রায়ান এমবিউমো (ক্যামেরুন)
আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮ বার বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডধারী ক্যামেরুনের এবারের আসরে জায়গা না পাওয়াটা ছিল বড় চমক। আফ্রিকান প্লে-অফের সেমিফাইনালে ডিআর কঙ্গোর কাছে হেরে ক্যামেরুনের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে চলতি মৌসুমে ১০ গোল করা এমবিউমোর বিশ্বকাপ স্বপ্নও শেষ হয়ে যায়।
আরও যেসব তারকা ফুটবলার মিস করবেন
ইনজুরি ও অফ-ফর্মের কারণে আরও একঝাঁক চেনা তারকা এবারের আসরে থাকছেন না। স্পেনের মিডফিল্ডার ফারমিন লোপেজ ডান পায়ের ইনজুরির কারণে এবং জার্মানির সার্জ গ্যানাব্রি উরুর ইনজুরিতে পড়ে বাদ পড়েছেন।
চলতি মৌসুমে বাজে ফর্মের কারণে ইংল্যান্ড দল থেকে বাদ পড়েছেন কোল পামার ও ফিল ফোডেন। জাপানের তাকুমি মিনামিনো এবং কাওরু মিতোমা (হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি) বাদ পড়েছেন।
ব্রাজিলের ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও অস্ত্রোপচারের কারণে এবং ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো ও রিশার্লিসন আনচেলত্তির স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন।
এছাড়া স্লোভেনিয়ার গোলরক্ষক ও অধিনায়ক জান ওবলাক এবং হাঙ্গেরির ডমিনিক সোবোসলাইয়ের দেশ বাছাইপর্ব পার হতে না পারায় এই মহামঞ্চে দেখা যাবে না তাদের।