ভূমিকম্পে মৃত্যু ৮০০০ ছাড়িয়েছে তুরস্ক ও সিরিয়ায়

ভূমিকম্পে সিরিয়া ও তুরস্কে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৩০০। উদ্ধারকর্মীরা এখনো আটকে পড়া জীবিতদের সন্ধান করছেন। কর্মকর্তা এবং চিকিৎসকরা বলেছেন, তুরস্কে পাঁচ হাজার ৮৯৪ জন এবং সিরিয়ায় দুই হাজার ৪৭০ জন মারা গেছে। এ নিয়ে তুরস্ক এবং সিরিয়া মিলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো আট হাজার ৩৬৪।

ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়া যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ধসে পড়া হাজার হাজার ভবনের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন আরো বহু মানুষ। আটকে পড়া অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন। তুরস্ক ও সিরিয়ার জরুরি বিভাগের কর্মীরা প্রাণপণে উদ্ধার অভিযানে ব্যস্ত। বিভিন্ন দেশ থেকেও তাঁদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী। তবে তুরস্কে তীব্র শীত ও তুষারে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান। অন্যদিকে সিরিয়ায় যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে উদ্ধারকাজ চলছে খুব ধীরগতিতে। তুরস্কের ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে তিন মাসের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। 

তুরস্ক ও সিরিয়ার ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষজন এখন খাদ্য ও শীতের পোশাকের অভাবে ভুগছে। অনেকের বাড়িঘর ধসে পড়েছে। আবার বাড়ি অক্ষত থাকলেও অনেকে পরাঘাতের ভয়ে ঘরে ফিরতে পারছে না। এতে তীব্র শীতের মধ্যেও বাইরেই থাকতে হচ্ছে প্রায় সবাইকে। দুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য তুরস্কের বিভিন্ন স্থানে তিন লাখের বেশি তাঁবু সরবরাহ করা হয়েছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস বলেন, ‘এটি এখন সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। আমরা এখন আহত ও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে জরুরি চিকিৎসাদলের নেটওয়ার্ক সক্রিয় করেছি।’বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা করছে, মৃতের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। সংস্থার কর্মকর্তাদের অনুমান, নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়াতে পারে। এই ভূমিকম্পে মোট দুই কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।