ট্রাম্পের ফোনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে তীব্র ভর্ৎসনা। ট্রাম্প নাকি সরাসরি বলেছেন, নেতানিয়াহু ‘পাগলের মতো আচরণ করছেন’। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এমন এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন ফাঁসের পর তোলপাড় পুরো আন্তর্জাতিক মহল।
কিন্তু আসলেই কি ট্রাম্প আর নেতানিয়াহুর মধ্যে কোনো ফাটল ধরেছে? নাকি এই তীব্র ভাষায় গালিগালাজ আর ক্ষোভ ফাঁসের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যান? এই হাই-ভোল্টেজ তথ্যযুদ্ধের আসল সত্য কী?
জো বাইডেনের মেয়াদের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সির ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। আর এরই মধ্যে সোমবার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দাবি করে, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো নিয়ে নেতানিয়াহুকে ফোনে রীতিমতো ধমক দিয়েছেন ট্রাম্প।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই খবর প্রকাশের ঠিক পরপরই দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ ৬ জন নিহত হন। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প যখন ঘোষণা করেন যে হিজবুল্লাহ ও নেতানিয়াহু উভয় পক্ষই ‘গুলি বিনিময় বন্ধ করতে’ সম্মত হয়েছে, তার ঠিক পরপরই নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দেন, লেবাননে তাদের ধ্বংসাত্মক অভিযান চলতেই থাকবে! মুখে ধমকের কথা বলা হলেও বাস্তবে নেতানিয়াহুর এই অবাধ্য আচরণের রহস্য কী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন নেতাদের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এই ‘বন্ধ দরজার আড়ালের ক্ষোভ’ বা ফোনালাপ ফাঁসের খবরগুলো আসলে এক ধরনের আইওয়াশ বা চোখ ধাঁধানো নাটক।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে আমেরিকা, জাতিসংঘে বারবার ভেটো দিয়ে যুদ্ধবিরতি আটকেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে ‘নায়ক’ বলেও সম্বোধন করেছেন। তাহলে হুট করে এই ফোনালাপ ফাঁসের উদ্দেশ্য কী?
বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভির মতে, এই যুদ্ধ আমেরিকার সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয়। তাই ট্রাম্পকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর ও শক্তিশালী নেতা হিসেবে দেখিয়ে জনরোষ কমানোর জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই তথ্যগুলো মিডিয়াতে ফাঁস করা হচ্ছে! অন্য এক দল বিশ্লেষকের মতে, এর মূল লক্ষ্য ইরানকে শান্ত রাখা। যাতে ইরান মনে করে ট্রাম্প লেবাননের পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। অর্থাৎ, মাঠের যুদ্ধের চেয়েও বড় আকারে চলছে এক ‘তথ্যযুদ্ধ’!
সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস অবশ্য তাদের প্রতিবেদনের পক্ষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনে যতই উত্তেজনা চলুক না কেন, ইরান ইস্যুতে তারা পর্দার আড়ালে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছেন। অর্থাৎ, প্রকাশ্যে ধমক বা ক্ষোভের খবর যতই আসুক, মার্কিন নীতিতে কিন্তু ইসরাইলের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। দিনশেষে নেতানিয়াহু ঠিক সেটাই পাচ্ছেন, যা তিনি আমেরিকার কাছ থেকে চান!





