২০৩০ সালের মধ্যে বিভাগীয় শহরে ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ নিশ্চিতের লক্ষ্য সরকারের

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে ক্রমান্বয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে ভূ-গর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা প্রায় ৬৫ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ পানি ভূ-গর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ৩০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ উৎস (পদ্মা, মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদী) থেকে সংগ্রহ করছে। ঢাকায় অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মেঘনা নদী তীরবর্তী গন্ধর্বপুর এবং ঢাকার সায়েদাবাদে নির্মিত পানি শোধনাগার প্রকল্পের মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।

পানির উৎস ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানির প্রায় ৯২ শতাংশ নদী ও জলাধারের মতো ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। বাকি মাত্র ৮ শতাংশ পানি গভীর নলকূপ থেকে নেওয়া হচ্ছে। কর্ণফুলী ও হালদা নদীর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত ৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অন্যান্য বিভাগীয় শহরের চিত্র তুলে ধরে জানান, রাজশাহী ও রংপুরে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পদ্মা ও অন্যান্য জলাশয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী ওয়াসার দৈনিক ২০ কোটি লিটার উৎপাদন সক্ষমতার শোধনাগার নির্মাণের কাজ ৮৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। খুলনা ও বরিশালে নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেশি থাকায় বড় ধরনের ওভারহেড ট্যাংক ও জলাধার তৈরির কাজ চলছে।সিলেট ও ময়মনসিংহে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস পর্যাপ্ত থাকলেও দূষণ রোধে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

পানির অপচয় রোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে টেলিভিশন, রেডিও ও সংবাদপত্রগুলোতে নিয়মিত বিজ্ঞাপন ও তথ্য বিবরণী প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে জুমার খুতবায় পানির অপচয় রোধে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গণযোগাযোগ অধিদফতরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণার মাধ্যমে পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।