হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা ও দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কার্গো জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। বিএসসি কর্তৃপক্ষ একে দেশের সামুদ্রিক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন এবং সংকট ব্যবস্থাপনার অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিএসসির প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জাহাজটিতে কর্মরত ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।

বিএসসি জানায়, সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি চার্টারের অধীনে গত ২৬ জানুয়ারি জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। পরে কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে প্রায় ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। তবে সেখানে অবস্থানকালে আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হলে জাহাজটির কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গত ১১ মার্চ কার্গো খালাস সম্পন্ন করা হয়।

এরপর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়লে বিএসসি নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাহাজটিকে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার বোঝাই করে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন ও ডারবান বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নেয় জাহাজটি।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পুরো সংকটকালেও জাহাজটি একদিনের জন্যও ‘অফ-হায়ার’ হয়নি। ফলে চার্টার ভাড়া অব্যাহত ছিল।

তবে সার বোঝাইয়ের পরও হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে। একপর্যায়ে গত ১৮ এপ্রিল ইরান নৌবাহিনী নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে জাহাজটির ট্রানজিট অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে। এর ফলে দীর্ঘ সময় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অপেক্ষা করতে হয় জাহাজটিকে।

বিএসসি আরও জানায়, অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা নাবিকদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, সুপেয় পানি, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষ মিল ভাতা, ঈদ প্রণোদনা এবং ‘ওয়ার ওয়েজ’ প্রদান করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দিকনির্দেশনা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদারকি, বিএসসির কৌশলগত ব্যবস্থাপনা এবং জাহাজের ক্যাপ্টেন ও ক্রুদের সাহসিকতার সমন্বয়েই এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

বিএসসি মনে করছে, চরম ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনা ও নিরাপদে গন্তব্যের পথে এগিয়ে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘কেস স্টাডি’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।