শুটিংয়ের ফাঁকে ফিজিওথেরাপি, তবু থামেননি সালমান

জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা ও মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। সেই মানসিক ধাক্কার প্রভাব পড়েছিল তাঁর শারীরিক অবস্থাতেও। এমনটাই জানিয়েছেন অভিনেতা বিশাল বশিষ্ঠ, যিনি ওই সময় সালমানের সঙ্গে একটি সিনেমায় কাজ করছিলেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশাল বলেন, বাবা সিদ্দিকীর মৃত্যুর পর সালমান একই সঙ্গে মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তবুও তিনি শুটিং বন্ধ করেননি।

বিশালের ভাষায়, “সালমানকে দেখে বোঝা যেত, তিনি কতটা ক্লান্ত এবং ভেঙে পড়েছেন। ধীরে ধীরে হেঁটে এসে দৃশ্যের শুটিং শেষ করতেন। ‘কাট’ বলামাত্রই ফিজিয়োথেরাপির জন্য চলে যেতেন। অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য শরীর সচল রাখা জরুরি ছিল, কিন্তু তিনি যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন।”

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে, অনেক সময় সালমানের চেয়ার থেকে ওঠা কিংবা বসাও কষ্টকর হয়ে পড়ত। “বসার ক্ষমতা পর্যন্ত ছিল না। তবু তিনি একদিনের জন্যও শুটিং বাতিল করেননি। এই পেশাদারিত্ব সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক,” বলেন বিশাল।

বিশালের মতে, শুটিং সেটে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলেও ইউনিটের সবাই জানতেন, সালমান কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাই তাঁর প্রতি সবার সহানুভূতিও ছিল।

সালমানের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ছবির কয়েকটি অ্যাকশন দৃশ্য পরে ধারণ করা হয়। শুটিংয়ের শেষ দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল বলেও জানান সহঅভিনেতা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় গুলিতে নিহত হন এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকী। পরে এই হত্যার দায় স্বীকার করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। একই সঙ্গে তারা বাবা সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠদেরও হুমকি দেয়, যার মধ্যে ছিলেন সালমান খানও।

বাবা সিদ্দিকীর সঙ্গে সালমানের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায় অভিনেতার। সেই মানসিক চাপই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও কাজ—দুই ক্ষেত্রেই গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে জানা গেছে।