বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের নামই যেন প্রতিপক্ষের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলটি শেষ ষোলোতে খেলতে নেমে এখন পর্যন্ত মাত্র একবারই বিদায় নিয়েছে। বাকি সব ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সেলেসাওরা।
১৯৮৬ সালে ২৪ দলের বিশ্বকাপ চালুর পর থেকে গ্রুপ পর্ব শেষে ‘রাউন্ড অব ১৬’ চালু হয়। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিল এই পর্বে খেলেছে ১০টি ম্যাচ। এর মধ্যে জয় পেয়েছে ৯টিতে, হার মাত্র একটিতে। এই সময়ে তারা প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছে ২৪ বার, বিপরীতে গোল হজম করেছে মাত্র ৪টি। ছয়টি ম্যাচে আবার কোনো গোলই খেতে হয়নি।
ব্রাজিলের একমাত্র পরাজয়টি আসে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে। সেবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এরপর অবশ্য আর কখনো এই ধাপে হোঁচট খায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শেষ ষোলোর ফল
১৯৮৬: পোল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়
১৯৯০: আর্জেন্টিনার কাছে ০-১ গোলে হার
১৯৯৪: যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়
১৯৯৮: চিলির বিপক্ষে ৪-১ গোলে জয়
২০০২: বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়
২০০৬: ঘানার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়
২০১০: চিলির বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়
২০১৪: চিলির সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয়
২০১৮: মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়
২০২২: দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলে জয়
তবে এরও আগে, ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ বিশ্বকাপে ‘রাউন্ড অব ১৬’ থাকলেও সেটিই ছিল টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড। অর্থাৎ তখন গ্রুপ পর্ব শেষে নকআউটে ওঠার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ওই দুই আসরে ব্রাজিলের রেকর্ড—এক জয় ও এক হার। ১৯৩৪ সালে স্পেনের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছিল তারা, আর ১৯৩৮ সালে পোল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৬-৫ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। তাই আধুনিক বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর পরিসংখ্যানের সঙ্গে এই দুই ম্যাচ সাধারণত একসঙ্গে বিবেচনা করা হয় না।
২০২৬ বিশ্বকাপে অবশ্য টুর্নামেন্টের কাঠামো বদলেছে। ৪৮ দলের আসরে প্রথমবারের মতো যোগ হয়েছে ‘রাউন্ড অব ৩২’। সেই পর্বে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। এবার তাদের সামনে প্রতিপক্ষ নরওয়ে। ইতিহাস বলছে, এই ধাপে ব্রাজিলকে থামানো মোটেও সহজ কাজ নয়।





