ইরানি জাতিকে উদ্দেশ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিমূলক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও কঠোর জবাব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সচিব মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান কোনো ধরনের অসম্মানজনক আচরণ বা ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষা বরদাশতের পাত্র নয় এবং যেকোনো পরিস্থিতির মুখে তারা নিজেদের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে সোমবার ওভাল অফিসে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো উপায়ে যুদ্ধে জয়ী হবে ওয়াশিংটন। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, ‘আমরা হয় একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাব, না হয় এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাব। আর কাজটি সম্পন্ন করা আমাদের জন্য মোটেও কঠিন কিছু হবে না।’
ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক মন্তব্যের জবাবে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এসএনএসসি প্রধান মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইরানের ৯ কোটি ১০ লাখ মানুষকে ভয় দেখানোর যে অপচেষ্টা ট্রাম্প করছেন, তা মূলত তাঁর চরম বিভ্রান্তিরই বহিঃপ্রকাশ।
ট্রাম্পকে অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এর আগেও মাত্র ২৫০ বছরের ইতিহাস সমৃদ্ধ একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আপনি ইরানের হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতাকে মুছে ফেলার অবাস্তব হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু দিনশেষে আপনার ভাগ্যে কেবল পরাজয়, চরম অসহায়ত্ব এবং যুদ্ধবিরতির জন্য আকুল আবেদনই জুটেছিল।
যুলঘাদর আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানি জনগণকে ধমক দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই, কারণ তারা বিদেশি শক্তির এমন হুমকিতে অভ্যস্ত নয় এবং এতে তারা বিন্দুমাত্র বিচলিতও হয় না। মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানিদের সাথে কথা বলতে হলে সম্মানের ভাষা ব্যবহার করুন। অন্যথায় আপনাদের এই ঔদ্ধত্যের জবাব আমাদের ভিন্ন ভাষায় দিতে বাধ্য করা হবে।’
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের একপেশে আধিপত্য ও ভয় দেখানোর রাজনীতির বিরুদ্ধে ইরানের এই দৃঢ় অবস্থান তাদের প্রাচীন ঐতিহ্য ও জাতীয় আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন। তেহরান আবারও পরিষ্কার বার্তা দিল যে, যেকোনো ধরনের বৈরী আচরণ বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা একটি সুচিন্তিত, সুদৃঢ় এবং মোক্ষম জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।





