খামেনির মরদেহ পবিত্র নগরী কোমে, নাজাফ ও কারবালায় দাফনপূর্ব প্রস্তুতির পরিকল্পনা

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে তাঁর মরদেহ রাজধানী তেহরান থেকে দেশটির অত্যন্ত পবিত্র নগরী কোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই নেতার আকস্মিক প্রয়াণের পর দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে আজ ইরানের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা গেছে।

ইরানের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘আইআরআইবি’ (IRIB) কোমের বিখ্যাত জামকারান মসজিদের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ নেতার মরদেহ বহনকারী একটি বিশেষ সামরিক হেলিকপ্টার উড়ে যাওয়ার লাইভ ও রেকর্ডকৃত ফুটেজ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার করেছে। পরবর্তীতে এক বিশেষ বুলেটিনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, ওই সুনির্দিষ্ট হেলিকপ্টারটির মাধ্যমেই সর্বোচ্চ নেতার মরদেহ অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কোমে স্থানান্তর করা হচ্ছিল।

প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আগামীকালও কোমে এই বিশাল শোক মিছিল, বিশেষ প্রার্থনা ও দাফনপূর্ব ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অব্যাহত থাকবে। সেখানে লাখো অনুসারীর উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় জানাজা সম্পন্ন করার পর, পরবর্তী ধাপের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের জন্য তাঁর মরদেহ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকে নিয়ে যাওয়া হবে। শিয়া মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগঘন স্থান হিসেবে পরিচিত ইরাকের নাজাফ এবং কারবালা শহরেও তাঁর লাশ নিয়ে বিশেষ জানাজা ও শোকসভার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হতে যাচ্ছে।