ভিএআরের সিদ্ধান্তে সুইস ফুটবলারকে লাল কার্ড, আর্জেন্টিনা কি বিশেষ সুবিধা পেল?

ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে। এরপর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। প্রথমে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, পারেদেসের সংস্পর্শে আসার আগেই এমবোলো মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন।

এরপর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এমবোলোকে ‘সিমুলেশন’ বা ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউলের অভিনয়ের দায়ে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ম্যাচে এটি ছিল তার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সুইস ফরোয়ার্ড।

মাঠ ছাড়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এমবোলো। সাইডলাইনে গিয়ে সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দেন।

ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই ড্যান এনডয়ের গোলে ১-১ সমতায় ফিরেছিল সুইজারল্যান্ড। তবে এমবোলোর বিদায়ের পর ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে যায়। অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচ শেষে ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুইজারল্যান্ডের ডিফেন্ডার নিকো এলভেদি।

তিনি বলেন, “ভিএআর কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না।”

এদিকে, ভিএআরের এই সিদ্ধান্তের পর কেউ কেউ সমালোচনা করলেও এটি কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে ভিএআরের মাধ্যমে ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ (ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া) প্রটোকল ব্যবহার করে হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত সংশোধন করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে। সেই নিয়মেই লাল কার্ড পান এমবোলো।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গত ৬০ বছরে সিমুলেশনের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে বহিষ্কৃত হওয়া চতুর্থ ফুটবলার হলেন এমবোলো। এর আগে ২০০২ সালে ইতালির ফ্রান্সেসকো টট্টি, ২০০৬ সালে মেক্সিকোর লুইস পেরেজ এবং একই আসরে ঘানার আসামোয়া জিয়ান একই কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।