স্পেন–ফ্রান্স সেমিতে বিশ্বকাপের ভাগ্য?

বিশ্বকাপের ফাইনাল এখনও বাকি। কিন্তু ফুটবল বিশ্বের বড় একটি অংশের চোখে সবচেয়ে বড় লড়াইটি আসছে তারও আগে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই শিরোপার দুই প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত ফ্রান্স ও স্পেন এবার মুখোমুখি হচ্ছে সেমিফাইনালে। ফলে দুই দলের একটি নিশ্চিতভাবেই বিদায় নেবে ফাইনালের আগেই। আর সেই বাস্তবতাই বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াকে বলতে বাধ্য করেছে-এই সেমিফাইনালই আসলে এবারের বিশ্বকাপের প্রকৃত ফাইনাল।

কোয়ার্টার ফাইনালে দুই দলই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে ভিন্ন দুই গল্পে। ফ্রান্স মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোনো ধরনের নাটকীয়তা ছাড়াই শেষ চার নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে স্পেনকে ঘাম ঝরাতে হয়েছে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

আগামী মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টা) ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি। ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই এটিকে ফাইনালের আগের ফাইনাল হিসেবে দেখছেন। সেই তালিকায় যোগ দিয়েছেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াও।

স্পেনের কাছে হারের পর ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স ও স্পেনের সেমি-ফাইনালের জয়ী দলই হবে বিশ্ব চ‍্যাম্পিয়ন। শিরোপা জয়ের জন‍্য স্পেন ফেভারিট। তারা ফ্রান্স ও অন‍্য যেকোনো দলকে হারাতে পারে, সেটা তারা প্রমাণ করেছে। আমরা তাদের বিপক্ষে ভালো একটি ম‍্যাচ খেলেছি এবং মানুষ যেমন মনে করেছিল এর চেয়ে বেশি লড়াই করেছি।’

কর্তোয়ার এই মন্তব্যের পেছনেও রয়েছে ম্যাচের তিক্ত অভিজ্ঞতা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে লড়াইয়ে প্রথমার্ধে ফাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। পরে চার্লস ডি কেটেলারের গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। ম্যাচ যখন জমে উঠেছে, তখনই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় কর্তোয়াকে। তার বদলি সেনে ল্যামেন্স দায়িত্ব নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ডি-বক্সের ভেতর রিবাউন্ড বল থেকে গোল করে স্পেনকে জয় এনে দেন মিকেল মেরিনো।

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুই দলের যাত্রাপথও দারুণ। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে ফ্রান্স পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়ে এসেছে। অন্যদিকে লামিন ইয়ামালকে ঘিরে স্পেন খেলছে তাদের চিরচেনা দখলভিত্তিক, আক্রমণাত্মক ফুটবল। দুই দলের ভিন্ন দর্শনই সেমিফাইনালকে এনে দিয়েছে অন্যরকম মাত্রা।

তাই এটি শুধু একটি ফাইনালের টিকিটের লড়াই নয়, বরং দুই ইউরোপীয় ফুটবল শক্তির আধিপত্য প্রতিষ্ঠারও মঞ্চ। একদিকে এমবাপ্পের গতি, অন্যদিকে ইয়ামালের সৃজনশীলতা-এই দুই তারকার লড়াইয়ের দিকেই তাকিয়ে থাকবে ফুটবল বিশ্ব!