সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, বরেণ্য ভাষাসৈনিক এবং বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) জাতীয় সংবাদ সংস্থা ‘বাসস’-এ পাঠানো এক বিশেষ শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে এক প্রজ্ঞাবান, সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তাঁর বর্ণাঢ্য ও সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও গভীর দায়িত্ববোধের সঙ্গে দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সুসম্পন্ন করেছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির সুস্থ বিকাশ ঘটানো এবং একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের যে অসামান্য অবদান, তা এ দেশের জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
জমির উদ্দিন সরকার আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অবিচল ও আপসহীন ছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, চরম প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। স্বৈরাচারী রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি অনন্য নিষ্ঠা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কাঠিন্যের সঙ্গে দলের জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সদাসর্বদা সমুন্নত রেখেছেন।’
বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলন ও সংগ্রামে মরহুমের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার এবং মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান বিএনপির ইতিহাসে যেমন সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে, তেমনি দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায়ও এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের চলে যাওয়ার মাধ্যমে দেশ আজ একজন অভিভাবকসম অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক এবং সত্যিকারের খাঁটি দেশপ্রেমিককে হারাল। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য সর্বদা এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত এবং অনুপ্রেরণার অফুরন্ত উৎস হয়ে থাকবে।’
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের সব গুনাহ মাফ করে মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম নসিব করার জন্য প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও দেশ-বিদেশে থাকা অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।





