আষাঢ়ের বিদায়লগ্নে আজ রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে রাজধানীবাসী। ভোর ৫টা থেকেই ঢাকার আকাশ ভেঙে শুরু হয়েছে মুষলধারে ঝুম বৃষ্টি। সকাল গড়িয়ে বেলা বাড়লেও বিরতিহীনভাবে চলছে এই বর্ষণ।
ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই মিরপুর, শ্যাওড়াপাড়া, মতিঝিল, নয়াপল্টন, পুরান ঢাকা ও খিলগাঁওসহ রাজধানীর অর্ধেকেরও বেশি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে থইথই করছে পানি। কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমরসমান নোংরা পানি জমে যাওয়ায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সাতসকালে এমন বৈরী পরিস্থিতিতে কর্মস্থলগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পোশাক শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। রাস্তায় গণপরিবহন ও রিকশার সংখ্যা কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের, আর সুযোগ বুঝে কয়েক গুণ বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে চালকদের বিরুদ্ধে। অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন বিকল হয়ে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজটের।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুধু ঢাকাই নয়, গত কয়েক দিন ধরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত ছয় দিনে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল তথা চট্টগ্রাম বিভাগে অন্তত ৪৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই প্রলয়ংকরী বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং সেখানকার প্রায় ২৪২ কিলোমিটার পাকা সড়ক সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সর্বশেষ পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস সতর্ক করে জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। ফলে ঢাকার বর্তমান জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার শঙ্কার পাশাপাশি দেশের বন্যা কবলিত জেলাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





