টানা বর্ষণে রাজধানী ঢাকার চিরচেনা জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগের চিত্র আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
গতকাল দিনভর অতি ভারী বৃষ্টির পর আজ সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) সকালেও নগরীর বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক ও গলিপথ পানির নিচে তলিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সকালের ব্যস্ত সময়ে সড়কে জমে থাকা কাদা-পানি, তীব্র গণপরিবহন সংকট এবং রিকশা ও সিএনজি চালকদের অতিরিক্ত ভাড়ার নৈরাজ্যে চরম বিপাকে পড়েছেন অফিসগামী সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
আজ সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে ছাতা মাথায় দিয়ে কাকভেজা হয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় শত শত মানুষকে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত পরিবহন না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে নোংরা পানি মাড়িয়েই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। রাস্তায় বাসের সংখ্যা কম থাকায় যেগুলো আসছিল, সেগুলোতে ছিল তিল ধারণের ঠাঁই নেই অবস্থা। এই সুযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
জলাবদ্ধতায় ডুবল ঢাকার যেসব এলাকা:
গতকালকের অতি ভারী বর্ষণের পর আজ সোমবার সকালেও রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, মোহাম্মদপুরের একাংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট, ইসিবি চত্বর, মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, আগারগাঁও, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, শনির আখড়া, বংশাল, নাজিমউদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর-১৩, কালশী, হাতিরঝিল, গুলশান লেকপাড় এবং কালাচাঁদপুরসহ অসংখ্য নিচু এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না থাকায় অনেক জায়গায় পানি সরতে দীর্ঘ সময় লাগছে।
যাত্রী ও চালকদের ভাষ্য:
রামপুরা থেকে পল্টনে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী সাজ্জাদ হোসেন তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি। চাকরি বাঁচানোর তাগিদে বাধ্য হয়েই ঘর থেকে বের হতে হয়েছে। কিন্তু রাস্তায় এসে দেখি বাস নেই বললেই চলে। প্রতিদিন যে ভাড়ায় সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাই, আজ তার দ্বিগুণ-তিনগুণ চাওয়া হচ্ছে। অফিসে তো সময়মতো পৌঁছাতে হবে, তাই পকেটের গাঁট কাটা দিয়েই যেতে হচ্ছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ভোগান্তির আসলে কোনো শেষ নেই।”
অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিএনজিচালক মোখলেসুর রহমান বলেন, “বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে গাড়ি চালানো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। রাস্তায় থৈ থৈ পানি থাকায় যেকোনো সময় ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ি বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গতকালই জলাবদ্ধতায় পস্তাতে হয়েছে, আমার সিএনজির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সারাদিন আর কোনো ট্রিপ মারতে পারিনি, উল্টো গ্যাঁটের পয়সা খরচ করে মেকানিক দেখাতে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে একটু বেশি ভাড়া চাইছি। তবে আমরা কাউকে জোর করছি না, যাত্রীরা রাজি হলেই কেবল যাচ্ছি।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টির এই ধারা আরও বজায় থাকলে ঢাকার সার্বিক জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি এবং যান চলাচলের স্থবিরতা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।





