‘ভোটের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছি, সন্তানদের লেখাপড়া সচল হয়েছে’

“ভোটের আগে আপনি আমাদের কথা দিয়েছিলেন ফ্যামিলি কার্ড দেবেন। ভোটের কালি শুকানোর আগেই আমরা তা হাতে পেয়েছি। এই কার্ড পাওয়ার পর থেকে সন্তানদের বন্ধ হতে বসা লেখাপড়া আবার সচল করতে পেরেছি, পরিবার পরিচালনায় অর্থনৈতিক জোগান দিতে পারছি।” প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এভাবেই নিজের আবেগঘন অনুভূতি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পারুল আক্তার নামের এক প্রান্তিক নারী।

সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফরের অংশ হিসেবে গৌরনদী উপজেলায় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত ৬১৭ জন নারী অংশ নেন, যাদের মধ্য থেকে তিনজনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবচিত্র সরাসরি শোনেন প্রধানমন্ত্রী।

উপকারভোগীর চোখে ফ্যামিলি কার্ডের প্রভাব:

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে পারুল আক্তার আরও বলেন, “একসময় আমার সন্তানদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। টাকার অভাবে প্রাইভেট পড়ানো তো দূরের কথা, তাদের মুখে ঠিকমতো খাবার তুলে দেওয়াও আমার পক্ষে দায় হয়ে পড়েছিল। আজ এই ফ্যামিলি কার্ডের সহায়তায় আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আমরা যেন সবসময় আপনাকে এভাবেই পাশে পাই।”

নারীদের স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর:

পারুল আক্তারের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা কথা দিয়েছিলাম বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আমরা শুরু করে দিয়েছি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেই ৪১ লাখ পরিবারের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে নিতে হলে নারীদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা সবার আগে প্রয়োজন।”

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রবর্তিত নারী শিক্ষার ধারাকে আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, পূর্ববর্তী নীতি অনুসরণ করে বর্তমান সরকার নারীদের জন্য প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি বা অবৈতনিক করবে এবং মেধাবীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা রাখবে।

গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সময়:

এর আগে, আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গৌরনদীতে পৌঁছালে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বাটাজোর ইউনিয়নে নবখননকৃত সরিকল খালের পাড়ে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় চারা রোপণ করেন। বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর একটি সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।