গেল শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। অভিযোগ উঠেছে, কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি আপত্তিকর ছবি সংবলিত পোস্টার প্রদর্শন করেন তিনি।
মুহূর্তেই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এ ঘটনার জেরে বিজেপির পক্ষ থেকে আনন্দপুর থানা ও বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিনেত্রীর কঠোর শাস্তি ও গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন।
গ্রেফতারের দাবি উঠলে রবিবার (২৬ জুলাই) ফেসবুক লাইভে এসে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন শ্রীলেখা মিত্র। তিনি জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অসংখ্য ফোন আসায় প্রকৃত ঘটনাটি সবার সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি রাজনৈতিকভাবে বিজেপি বা মোদী বিরোধী হতে পারি। তাই বলে কেউ দেশদ্রোহী তকমা দিলে যেমন হাস্যকর হবে, তেমনি যদি কেউ মনে করে ওইরকম ছবি ইচ্ছা করে হাতে তুলে নিয়ে দাঁড়িয়েছি, তাহলে সেটাও ঠিক নয়।’
ঘটনার বিবরণ দিয়ে শ্রীলেখা জানান, দিল্লি থেকে আনা ওই পোস্টারগুলো লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের ভিড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। পুলিশের লাঠিচার্জের মুখে পড়ে তিনি নিজেও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে জীবনের প্রথমবার দৌড়েছেন।
অভিনেত্রী বলেন, ‘অধিকাংশ মেয়েরা পুরুষদের নিম্নাঙ্গ দেখে না। কিছু ছেলে পোস্টারটা নিয়ে যাচ্ছিল, তখন মোদীজির ছবিটা দেখে মজা লেগেছে। সেটা নিয়ে ছবি তুলেছি। পোস্টারটা ঘুরিয়ে দেখার সময় ছিল না। কারণ পুলিশ লাঠিচার্জ করছিল।’
ভিডিও বার্তায় বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে শ্রীলেখা বলেন, ‘আপনারা তো মানুষের মনে ভয় ধরাবার চেষ্টা করছেন। আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এমন শাস্তি দেবেন যা তিন পুরুষ মনে রাখবে। এর পর থেকে আমি পুরুষ মানুষদের নীচের দিকে দেখব এবং পরে তাঁদের চোখের দিকে তাকাব।’
সবশেষে বলেন, ‘আমাকে গ্রেফতার করার ইচ্ছা হলে করবেন। ফাঁসিতে চড়াতে হলে চড়াবেন। আবার একটা আন্দোলন হবে। আপনারা তৈরি তো? আমি তৈরি।’





