‘নেপাল আমার মাতৃভূমি’, স্বজনহারাদের পাশে দাঁড়াতে বলিউডকে গোবিন্দপত্নীর অনুরোধ

হিমালয়কন্যা নেপালে ভূমিধস ও ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়ে গভীর শোক প্রকাশ করে উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন বলিউড তারকা গোবিন্দর স্ত্রী সুনীতা আহুজা। এই কঠিন দুর্যোগের মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় তিনি নিজে আর্থিক অনুদান দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং অনুদানের টাকা যেন সরাসরি প্রকৃত দুস্থদের হাতে পৌঁছায়, সে জন্য সঠিক মাধ্যম খুঁজছেন বলে জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে সংকটময় এই পরিস্থিতিতে নেপালের সহায়তায় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সকল সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম বোম্বে টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সুনীতা আহুজা তার এই উদ্যোগ ও ভাবনার কথা জানান। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি এমন কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি যিনি নিশ্চিত করতে পারবেন যে আমার অনুদান যেন একদম সঠিক মানুষের কাছে গিয়ে পৌঁছায়। আমি আমার সাধ্যমতো যতটা সম্ভব অনুদান দিতে চাই, কারণ নেপালের মানুষ আমার হৃদয়ের অত্যন্ত কাছাকাছি এবং নেপাল আমার মাতৃভূমি।

নেপালের সঙ্গে তার গভীর পারিবারিক ও আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে সুনীতা বলেন যে তিনি নিজে সে দেশে জন্ম না নিলেও তার শিকড় রয়েছে এই পাহাড়ি ভূখণ্ডেই। সুনীতার কথায়, নেপালে এই ধরনের বিধ্বংসী বন্যা দেখার ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমার জন্ম সেখানে হয়নি ঠিকই, তবে আমার মা এবং নানি (দিদা) কাঠমান্ডুর মানুষ ছিলেন। প্রতি বছর নতুন বছরে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে নিয়মিত নেপাল ভ্রমণে যাই। জানুয়ারির ১ তারিখে পশুপতিনাথ মন্দিরে গিয়ে সেখানে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ নিয়েই আমরা নতুন বছর শুরু করি।

পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটায় গোটা চলচ্চিত্রজগতের কাছে সহায়তার হাত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে সুনীতা আরও বলেন, আমি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যেক সদস্যকে অনুরোধ করছি তারা যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সামনে আসেন এবং নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাহায্য ও অনুদানের হাত বাড়িয়ে দেন।

এদিকে ভারী বর্ষণ, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার তাণ্ডবে কাঠমান্ডুসহ সমগ্র নেপালে সার্বিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত নেপাল ও সংলগ্ন চীন সীমান্তে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার অতিক্রম করেছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে কেবল নেপালেই ৯৮৭ জনের প্রাণহানি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিকসহ এখনো ৩ হাজার ৯১৬ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

দুর্যোগের ভয়াবহতার কারণে প্লাবিত ও বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোতে হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েছেন। নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে নিরাপদ স্থানে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সড়ক ও সেতুগুলো ঢল ও ধসে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দুর্গম এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলগুলো হেলিকপ্টার ও অন্যান্য এয়ারক্রাফট ব্যবহার করছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সূত্রগুলো জানিয়েছে যে গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের উঁচুতে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে এই বিধ্বংসী পরিস্থিতির সূচনা হয়। একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ার পর বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও গলিত পানি নিচের উপত্যকায় তীব্র গতিতে নেমে আসে। পাহাড়ি নদীগুলোতে এই হঠাৎ পাহাড়ি ঢল প্রবল আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে যা নিমিষেই পুরো নিম্নাঞ্চলকে ভাসিয়ে নিয়ে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।