আম বাংলাদেশের মৌসুমী ফল। সারা বাংলাদেশের বাড়ি ঘরের আশে পাশে, পথে ঘাটে, সড়কে আম গাছ দাড়িয়ে ছায়া ও ফল প্রকৃতির মানুষকে উজাড় করে দিয়ে বাঁচিয়ে রাখছে। রসালো আম ফল ছোট বড় সকলের নিকট প্রিয় খাবার। পাকা আম স্বাদে গন্ধে ও পুষ্টিতে অতুলনীয়। তাই আমকে দেশীয় ফলের রাজা বলা হয়। এই ফল কাঁচা হোক বা পাকা দুটোই স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। আমে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, আয়রণ, ক্যালসিয়াম ও খনিজ লবণসহ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। বাজারে এখন বাহারি জাতের পাকা আম সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।
আম খাওয়ার যেমন অনেক উপকারিতা আছে ঠিক তেমনই এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াও আছে। বিশেষ করে আম খাওয়ার পর কিছু খাবার আছে যেগুলো একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক, আম খাওয়ার পর যে ৫ খাবার ভুলেও খাবেন না –
১। কোমল পানীয়
আম খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোমল পানীয় খেলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। আম আর কোমল পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকায় রক্তে ব্লাড সুগারের পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও ভীষণ বিপদের কারণ হতে পারে।.
২। পানি
আম খাওয়ার পর পানি পান করলে ভুগতে পারেন অ্যাসিডিটির সমস্যায়। হতে পারে পেট ব্যথাও। তাই আম খাওয়ার অন্তত আধঘণ্টা পর পানি পান করা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলের মধ্যে প্রচুর হাইড্রেটিং শক্তি রয়েছে যা আপনার তৃষ্ণা নিবারণের জন্য যথেষ্ট। তবে যদি আপনি ফল খাওয়ার পরেও তৃষ্ণার্ত বোধ করেন তবে কমপক্ষে ৩০ মিনিট পর পানি খান। বেশিরভাগ চিকিৎসক এবং ডায়েটিশিয়ানরা ফল এবং পানির মধ্যে ৪০-৫০ মিনিট ব্যবধানের পরামর্শ দেন। আপনি যদি বেশি তৃষ্ণার্ত বোধ করেন তবে ফল খাওয়ার ৩০ মিনিটের পর এক বা দুটি চুমুক পান করতে পারেন।
৩। দই
আমের সঙ্গে ভুলেও দই মিশিয়ে খাবেন না। কারণ দই আর আম এক সঙ্গে শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এতে চামড়ায় অ্যালার্জি হতে পারে। হতে পারে হজমে সমস্যা, এমনকি পাকস্থলীতে বিষক্রিয়াও হতে পারে এর থেকে।.
৪। করলা
করলা শরীরের জন্য অনেক উপকারী হলেও, আম খাওয়ার পরপরই তা খাওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আম খাওয়ার পর করলা খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে। ফলে বমি, বমি বমি ভাব ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হতে পারে।
৫। ঝাল ও মশলাযুক্ত খাবার কখনও নয়
আপনার যদি ব্রণর সমস্যা থাকে তাহলে তেল মশলাজাতীয় ও ভাজাপোড়া খাবারের সঙ্গে আম খাবেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আম খেলে পেট গরম হয়ে যায়, ফলে যাদের মুখে ব্রণের সমস্যা আছে তা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু সতর্কতা:
* কিডনী রোগীরা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আম খাবেন না।
* যারা অতিরিক্ত মোটা তারা আম কম খাবেন।
* ডায়রিয়া চলাকালে আম খাবেন না।
* আম কেটে বেশিক্ষন খোলা রাখবেন না। কাটার পরপরই খেয়ে নিবেন।
* ডায়বেটিস রোগী অল্প পরিমাণে আম খান। অতিরিক্ত মিষ্টি আম খাবেন না। তবে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মতে আম খাবেন।
* আম অবশ্যই দিনের মধ্যভাগে খাওয়া ভালো রাতের বেলায় খাবেন না, এতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।





