ডিসেম্বরের মধ্যে চকবাজার এলাকা থেকে অন্তত ৫০০ অবৈধ কারখানা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। সকালে চকবাজারের দেবীদাস ঘাট লেন এলাকা পরিদর্শন করে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গার পার ঘেঁষে গড়ে ওঠা এ বসতি এলাকা আসলে পর্যটন নগরী হওয়া উচিৎ বলে মনে করি। এভাবে অবৈধ কারখানা, ব্যবসা এবং বসতি থেকে আমাদের বের হয়ে পর্যটন নগর হিসেবে গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকে চিরুনি অভিযান করে ১৯২৪টি অবৈধ কারখানা, গুদামঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই এসব স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। অনাকাঙ্খিত এসব মৃত্যু আর মেনে নেয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এখানে ট্রেড সাইলেন্স ছাড়া ব্যবসা, পারমিশন ছাড়া প্রতিষ্ঠান, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুতের কানেকশন এবং অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ঘনবসতি গড়ে উঠেছে। এসব থেকে পরিত্রানের উপায় বের করা একা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সকল সংস্থা, সংগঠন, বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, সেই সাথে প্রয়োজন এলাকাবাসীর সচেতনতা।
এরপর ঢাকা সদর, জোন এক এর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক বজলুর রশীদ গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিত করতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। এলাকাবাসী এবং ব্যবসায়ীদের অসহযোগীতার কারণে আমাদের তদন্ত করতে সমস্যা হচ্ছে, তবে খুব শিগগিরই এ তদন্ত শেষ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রাথমিকভাবে হোটেল বরিশাল থেকেই আগুনের সুত্রপাত হয়েছে বলেও ধারণা করছেন তিনি।
এ সময়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ও ঢাকা-৭ আসনের ৩০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক গোকুল কৃষ্ণ ঘোষ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার উপ-মহাপরিদর্শক মো. সালাহ উদ্দিনসহ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে নিহত এর স্বজনদের হাতে ২ লাখ টাকা করে সহায়তার চেক তুলে দেন। এ সময় তারা নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। সোমবার চকবাজারের দেবীদাস ঘাট লেনে বরিশাল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। একই ভবনের ওপর তলায় পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানা থাকায় মুহূর্তেই তীব্র আকার ধারণ করে আগুন। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। পরে ওই দিন বিকেলে আগুন লাগা ভবন থেকে একে একে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।





