কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন চা শ্রমিকরা

দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন হবিগঞ্জের চা শ্রমিকরা। সকাল থেকে শ্রমিকরা বিভিন্ন বাগানে অবস্থান নিয়ে সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন করে ধর্মঘট পালন করছেন। লস্করপুর চা-ভ্যালির সভাপতি রবিন্দ্র গৌড় বলেন, সুরমা, তেলিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা নিজ নিজ চা বাগানে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি আদায় করে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিবে।

তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি খোকন তাঁতি বলেন, চা শ্রমিকরা দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত। আমরা যে মজুরি পাই তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষিত করার কোনও ব্যবস্থা নেই। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবনমান কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমাদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির দাবি একটি ন্যায্য দাবি।

৩০০ টাকা মজুরি আদায়ে গত ৯ থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত দৈনিক দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের ১০ জন শ্রমিক নেতার সঙ্গে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসলেও আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। শনিবার (১৩ আগস্ট) থেকে টানা ধর্মঘটের ডাক দেয় শ্রমিকরা। এরমধ্যে দফায় দফায় সভা ও বৈঠক হয়েছে। এতে ২৫ টাকা বাড়িয়ে দৈনিক মজুরি ১২৫ টাকা করা হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ শ্রমিকরা এ সিদ্ধান্ত না মেনে মানববন্ধন, সভা, সামাবেশ, কর্মবিরতি, ধর্মঘট ও মহাসড়ক অবরোধ করেন।

অবশেষে ১২০ টাকা মজুরিতে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু এ সিদ্ধান্তও মেনে নেননি সাধারণ শ্রমিকরা। ফলে দাবি আদায়ের ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন তারা।

এদিকে কাজে যোগ দেওয়ার একদিন পরই আজ মৌলভীবাজারের বেশিরভাগ বাগানের চা শ্রমিকরা আবারো কর্মবিরতি পালন করতে শুরু করেছেন। এসব বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সকালে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা একথা জানান। এর আগে ২২ আগস্ট মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরা ১২০টাকা মজুরিতেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন।

গত রোববার রাতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক অফিসে প্রশাসন, শ্রমদপ্তরের প্রতিনিধি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১২০ টাকা মজুরি রেখেই চা শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রস্তাব মেনে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ইউনিয়নের নেতারা। ইউনিয়ন নেতাদের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মঙ্গলবার আবারো কর্মবিরতিতে ফেরেন মৌলভীবাজারের অধিকাংশ চা বাগানের শ্রমিকরা।