মৃত্যুঝুঁকি জেনেও লিবিয়া-গ্রিস রুট ছাড়ছেন না বাংলাদেশিরা

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে গ্রিসে বিভিন্ন দেশের অনিয়মিত অভিবাসীর প্রত্যাবাসন ২০ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে সমুদ্রপথে অভিবাসী আগমন কমেছে ২৭ শতাংশ। তবে একই সময়ে শুধু লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপেই বাংলাদেশি নাগরিকের আগমন উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশিদের আগমন বেড়েছে ৩১২ শতাংশ। শুধু জুনেই ক্রিটে ৪ হাজার ২৭৮ জন অভিবাসী পৌঁছেছেন।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে গ্রিসে পৌঁছানোর এই অনিয়মিত পথটি এখনো বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট। প্রতিনিয়ত নৌকাডুবি, খাদ্য ও পানির সংকট এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রাণ হারাচ্ছেন বহু বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী। তবু উন্নত জীবনের আশায় মানব পাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে এই মৃত্যুঝুঁকির যাত্রায় পা বাড়াচ্ছেন অনেক বাংলাদেশি।

গ্রিক সংবাদমাধ্যম প্রোত দেমায় প্রকাশিত সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৬৩৮ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২০৭। এর মধ্যে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন ৪১ শতাংশ বেড়ে ৯১৫ থেকে ১ হাজার ২৯২ জনে পৌঁছেছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা অভিবাসীর সংখ্যা ১৮ শতাংশ বেড়ে ৭৪০ থেকে ৮৭০-এ দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সমুদ্রপথে গ্রিসে অনিয়মিত অভিবাসীর আগমন ১৬ হাজার ৯৮৫ থেকে কমে ১২ হাজার ৪৯৬ জনে নেমে এসেছে, যা ২৭ শতাংশ হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।

গ্রিস সরকার বলছে, উৎস দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কঠোর প্রত্যাবাসননীতির কারণে এ পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ‘কারাগার অথবা প্রত্যাবর্তন’ নীতির আওতায় ফেব্রুয়ারি থেকে ৫৯৯ জন অভিবাসী কারাদণ্ড এড়াতে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

গ্রিক সিটি টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সামগ্রিক চিত্রের বিপরীতে ক্রিট দ্বীপে অভিবাসীর চাপ বেড়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, দ্বীপটিতে আগমন আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশি নাগরিকের আগমন বেড়েছে ৩১২ শতাংশ।

গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস বলেছেন, দ্রুত যাচাইবাছাই, আইনি সহায়তার নতুন কাঠামো এবং আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির সঙ্গে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যুক্ত করার মাধ্যমে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।