বছর চারেক আগে শাকিব খান প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছিলেন, অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলী—দুজনই তাঁর জীবনে অতীত। অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘটনা জানলেও সেই বক্তব্যের পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, শাকিব খান ও বুবলীর দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি ঘটেছে।
তবে পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে বুবলীর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। সেখানে তিনি জানান, বিচ্ছেদ নয়, বরং সময় নিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
২০২২ সালের নভেম্বরের এক সাক্ষাৎকারে শাকিব খান বলেছিলেন, ‘একটা কথা নিশ্চিত করে বলতে চাই, অপু বিশ্বাস ও বুবলী দুজনেই এখন আমার কাছে অতীত। তাদের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই আমার সম্পর্ক জোড়া লাগার সম্ভাবনা নেই।
অতীত মানে তারা অতীতই। তারা আমার দুই সন্তানের মা, সন্তানের মা হিসেবে তাদের প্রতি আমার যে সম্মান ও সম্পর্ক থাকা দরকার, স্রেফ সেটুকুই থাকবে।’
এই মন্তব্যের পর দুই বছর কেটে যায়। এরপর ২০২৪ সালে নাগরিক টেলিভিশনের ‘বলা না-বলা’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন বুবলী।
তিনি জানান, তাদের বিচ্ছেদ হয়নি এবং ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা সময় নিচ্ছেন।
সেই সাক্ষাৎকারে বুবলী বলেছিলেন, ‘আমরা টাইম নিচ্ছি। আমাদের ডিভোর্স হয়নি। একটি দাম্পত্য সম্পর্কে অনেক ভুল-বোঝাবুঝি হয়। শেহজাদকে নিয়ে একা সংগ্রাম করছি।
সেখান থেকে সন্তানের বাবা হিসেবে তাকে কখনো অসম্মান করিনি। আমি কখনোই আক্রমণ করিনি, বরং সব সময় কিছু হলে তার জবাব দিয়েছি। নীরব থেকেছি। ধৈর্য ধরে তাঁর পাশে থেকেছি। আমাদের নিয়মিত দেখা হয়।’
তিনি আরো জানান, সময়ের সঙ্গে তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও ভালো হয়েছে এবং একসঙ্গে কাটানো সময়ও উপভোগ করেন।
বুবলী বলেছিলেন, ‘আমাদের দুজনের মধ্যে একটা মিল আছে, আমি যখন চুপচাপ থাকি তখন চুপচাপ। আবার পরিবারের সঙ্গে থাকলে খুব কথা বলি। শাকিব খান কিন্তু সেটে চুপচাপ থাকেন। আবার যখন বন্ধুমহলে থাকেন তখন খুব আড্ডাবাজ। বিষয়টি আসলে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। যে কারণে একে অন্যকে বোঝাটা গুরুত্বপূর্ণ।’
দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন প্রসঙ্গে বুবলী বলেছিলেন, মতবিরোধ হলেও তিনি ধৈর্যের পথই বেছে নিতেন। আর রাগ ভাঙানোর উদ্যোগ নিতেন শাকিব খান।
তার কথায়, ‘শাকিবের রাগ প্রচুর। রেগে গেলে চুপ হয়ে যান, তবে প্রকাশ করেন না। বুঝে নিতে হয়। আমিও তখন চুপচাপ হয়ে যাই। তাঁকে বোঝাতে চেষ্টা করি। রাগটা সঠিক হলে বোঝাতে চাই। আর না হলে সময় নিই যে তিনি হয়তো বুঝতে পারবেন। আর উল্টো দিকে আমি সহজে রাগি না। খুব যৌক্তিকভাবে রাগ করি। রাগটা আসলে তেমন নয়, প্রতিক্রিয়া দেখাই। রাগ ভাঙাতে শাকিব খানই এগিয়ে আসেন। কারও দাম্পত্য জীবন সুখের হলে সেখানে অন্য কেউ ঢুকতে পারে না। যে কারণে আমি ধৈর্য ধরতে চাই।’
বুবলী সেই সাক্ষাৎকারে তাদের ছেলে শেহজাদ খান বীরের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং চাননি ছেলে একা বড় হোক।
এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে বুবলী জানান, তিনি আবার মা হয়েছেন। কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও তিনি এতদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
সবশেষে নিজের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সুখবরটি জানান এই অভিনেত্রী। এরপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার পুরোনো সেই সাক্ষাৎকার, যা নিয়ে হচ্ছে আলোচনাও।





