ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। ফুটবলপ্রেমীদের নজর যেমন ট্রফির দিকে, তেমনই ফুটবলারদের পাখির চোখ থাকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান ‘গোল্ডেন বুট’-এর ওপর। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো; বিশ্বমঞ্চে গোল করার এই লড়াইয়ে নামতে মুখিয়ে আছেন সবাই। কিন্তু ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত এই পুরস্কারটি জিতলে আসলে কত টাকা পাওয়া যায়? কিংবা এই বুটটি কি আসলেও খাঁটি সোনার তৈরি? এই নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতুহলের শেষ নেই।
অনেকেই মনে করেন, নাম যেহেতু ‘গোল্ডেন বুট’, তাই এটি হয়তো নিরেট স্বর্ণ দিয়েই তৈরি। কিন্তু আসল তথ্য হচ্ছে, এই ট্রফিটি পুরোপুরি স্বর্ণের নয়। এটি মূলত পিতলসহ বিভিন্ন ধাতুর মিশ্রণে তৈরি একটি বুট, যার ওপর কেবল সোনার নিখুঁত প্রলেপ দেওয়া থাকে। প্রায় এক কেজি ওজনের এই স্মারকটির আনুমানিক বাজারমূল্য ছয়-সাত কোটি টাকার কাছাকাছি। ফিফা কখনো এর আনুষ্ঠানিক মূল্য প্রকাশ করে না।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, গোল্ডেন বুট জেতার জন্য ফিফা কোনো ফুটবলারকে আলাদাভাবে কোনো নগদ অর্থ বা প্রাইজ মানি দেয় না। অর্থাৎ, মাঠ কাঁপিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন দখল করলেও বিজয়ী তারকা সরাসরি কোনো টাকা পান না; তাঁর ঝুলিতে যায় কেবল এই সোনালি ট্রফি আর বিশ্বজোড়া সম্মান। তবে সরাসরি টাকা না পেলেও পরোক্ষভাবে এই পুরস্কারের আর্থিক মূল্য আকাশছোঁয়া। গোল্ডেন বুট জেতার পর বিশ্বমঞ্চে একজন ফুটবলারের বাজারমূল্য এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে যায়। বড় বড় নামী ক্লাবগুলোর লোভনীয় চুক্তি, কাড়ি কাড়ি টাকার স্পনসরশিপ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন থেকে তখন তাঁদের আয় হু হু করে বাড়তে থাকে।
বিশ্বকপের নিয়মানুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টে যে ফুটবলার সবচেয়ে বেশি গোল করেন, তিনিই এই পুরস্কার পান। গোলসংখ্যা সমান হলে অ্যাসিস্ট এবং মাঠে খেলার সময়ের হিসাব করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো ফুটবলার দুবার এই বুট নিজের করে নিতে পারেননি। গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ মোট ৮টি গোল করে এই অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন। তবে এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোল করে গোল্ডেন বুট জেতার রেকর্ডটি এখনো ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতেনের দখলে, যিনি ১৯৫৮ বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য ১৩টি গোল করেছিলেন। আর ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গিলের্মো স্টাবিলে ৮ গোল করে ইতিহাসের প্রথম গোল্ডেন বুট বিজয়ী হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছিলেন।





