এক ছাদের নিচে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থাকলে যা হয়

বাঙালির প্রিয় খেলার প্রতি ভালোবাসা চিরন্তন, আর সেই ভালোবাসা যদি ঘরের ভেতরেই দ্বন্দ্বে রূপ নেয়, তবে জীবন হয়ে ওঠে চলচ্চিত্রের চেয়েও নাটকীয়। যখন একজন কট্টর ব্রাজিল সমর্থক এবং একজন একনিষ্ঠ আর্জেন্টিনা ভক্ত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এক ছাদের নিচে বসবাস শুরু করেন, তখন সাধারণ সংসারও পরিণত হয় এক জীবন্ত রণক্ষেত্রে।

খেলার মৌসুমে ঘরের শান্তি যেন কর্পূরের মতো উড়ে যায়। বসার ঘরের টেলিভিশনের পর্দা চালু হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় আসল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। একজনের প্রিয় দলের জয়ের উল্লাস অন্যজনের জন্য হয়ে ওঠে তীব্র যন্ত্রণার কারণ। গোল হওয়ার সাথে সাথে ঘরের এক কোণ থেকে ভেসে আসে আনন্দের চিৎকার, আর অন্য কোণ থেকে আসে গভীর দীর্ঘশ্বাস। প্রতিবেশীরা অনেক সময় বুঝতেই পারেন না এটি খেলার আনন্দ নাকি পারিবারিক কলহ।

খাবারের টেবিলেও এর প্রভাব পড়ে বেশ স্পষ্টভাবেই। প্রিয় দল হেরে গেলে ঘরের এক সদস্যের মুখ মেঘলা হয়ে থাকে, অন্যজন তখন বিজয়ের হাসিতে মেতে ওঠেন। এমনকি রান্নাবান্না বা পছন্দের খাবারেও তখন চলে সূক্ষ্ম প্রতিশোধ নেওয়ার পালা। এক পক্ষ যখন হারের বেদনায় মূহ্যমান, অন্য পক্ষ তখন ইচ্ছে করেই মিষ্টি মুখে ব্যস্ত থাকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরকে উপহাস করা তো তখন নিত্যদিনের ব্যাপার। প্রেমময় বার্তার জায়গায় স্থান করে নেয় পুরোনো পরাজয়ের খতিয়ান আর ব্যঙ্গাত্মক ছবি। সকালের চায়ের আড্ডায় ভালোবাসার কথার চেয়ে বেশি আলোচনা আর তর্ক-বিতর্ক হয় কার দল কতবার শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জিতেছে তাই নিয়ে।

তবে এই খুনসুটি আর মধুর লড়াই সংসারের একঘেয়েমি দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে। মাঠের চিরশত্রুতা ঘরের ভেতর এসে এক অদ্ভুত আনন্দের সৃষ্টি করে। দিনশেষে খেলার মাঠে যে দলই হারুক বা জিতুক, সংসারের মাঠে শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক ভালোবাসারই জয় হয়।