যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ‘ইতিবাচক’ চোখে দেখছে বেইজিং

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চীন। বেইজিং এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছে।

সোমবার (১৫ জুন) আলজাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকেই চীন সব ধরনের শত্রুতা ও যুদ্ধাবসান, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনায় ফিরে আসার পক্ষে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নেওয়া দেশগুলোর অন্যতম। ফলে এই চুক্তি বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, তবে চুক্তিকে স্বাগত জানালেও বেইজিং এখনই অতি-উত্সাহী না হয়ে বেশ সতর্কতা বজায় রাখছে।

কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তির অনেক খুঁটিনাটি বিষয় এখনো অস্পষ্ট এবং বেশ কিছু দ্বিমত ও মতপার্থক্য নিরসন করা এখনো বাকি। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও এর প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে আরো ৬০ দিন সময় লাগবে। ফলে চীনের কাছে এটি একটি সম্ভাবনাময় ও আশাব্যঞ্জক শুরু হলেও, একে এখনই সংকটের চূড়ান্ত সমাপ্তি বলা যাচ্ছে না।

পাশাপাশি, এই চুক্তির ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না।

বেইজিং এই নতুন কূটনৈতিক পথকে সাধুবাদ জানালেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজের জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে আনার যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, তা থেকে চীন পিছু হটবে না।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর গত রবিবার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।