জোড়া গোলে কেইন যেসব রেকর্ড গড়লেন

মৌসুমে ৬৫ গোল করার অসাধারণ সুখস্মৃতি নিয়ে মাঠে নেমে হ্যারি কেইন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন তা কী কল্পনা করেছিলেন? ক্রোয়েশিয়ার ধ্রুবতারা লুকা মদ্রিচের ভুলে ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইন প্রত্যাশিতমতো শট নেন। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ কেইন।

ইংলিশ লায়ন্সের অধিনায়কের থেকে স্রষ্টা মুখ ফিরিয়ে নেননি। ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডোমিনিক লুকাকোভিচ খানিকটা এগিয়ে থাকায় রেফারি আবার পেনাল্টি দেয় ইংল্যান্ডকে। স্বস্তি ফেরে কেইনের। এবার আর ভুল করেননি বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড। লক্ষ্যভেদ করেন চোখের পলকে। এরপর ৪২ মিনিটে কেইন আরেকটি গোল করেন। কর্ণার থেকে পাওয়া বলে হেড দিয়ে ক্রোয়েশিয়ার জাল কাঁপিয়ে দেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ম্যাচ ইংল্যান্ড ৪-২ গোলে জিতে নেয়। আর জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচের নায়ক হয়েছেন কেইন।

জোড়া গোলে ইতিহাসের পাতায় নামও লিখিয়েছেন লায়ন্স অধিনায়ক। তিনটি রেকর্ডে কেইন নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিঙ্কার ও ডেভিড বেকহ্যামের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। এছাড়া সময়ের সেরা লিওনেল মেসিকেও ছুঁয়ে ফেলেছেন।

এই দুই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে কেইনের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ, যা লিঙ্কারের রেকর্ডের সমান। পাশাপাশি তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) গোল করা মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে বেকহ্যামের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন কেইন। সেই আসরে পানামার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন তিনি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও দুটি গোল করেছিলেন, যদিও কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ একটি পেনাল্টি মিস করেন। অন্যদিকে লিঙ্কার তার ১০টি বিশ্বকাপ গোল করেছিলেন দুটি আসরে। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের পর ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে আরও চার গোল যোগ করেন।

বিশ্বকাপের শুরুতেই গোলের খাতা খোলায় কেইন এখন লিঙ্কারকে ছাড়িয়ে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতার রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। একই সঙ্গে তিনি ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট জয়ের লক্ষ্যেও এগিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেন বলেছিলেন, ‘গ্যারি লিঙ্কারের ইংল্যান্ডের অসাধারণ একজন স্ট্রাইকার ছিলেন। তার ১০টি বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারাটা বিশেষ অর্জন। ব্যক্তিগত মাইলফলক অবশ্যই অনুপ্রেরণা দেয়, কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রেরণা হলো দলের সঙ্গে জেতা। যদি আমি গ্যারি’র রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারি, তাহলে সেটি দলের জয়েও অবদান রাখবে, আর সেটিই হবে সবচেয়ে ভালো ব্যাপার।’

এদিকে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করে মেসির একটি রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেনাল্টি নেয়ার সংখ্যায় এখন যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন হ্যারি কেইন ও লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে কেইনের পেনাল্টির সংখ্যা ছয়। মেসিও ছয় পেনাল্টিতে রয়েছেন শীর্ষে।