করের হার বৃদ্ধি না করে সরকার অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়াতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিড আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির দিকে জোর দিতে হবে এবং উৎপাদনমুখী শিল্পায়নকে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ উৎপাদনমুখী শিল্পায়ন সম্প্রসারিত হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। করের হার বাড়িয়ে নয়, বরং অর্থনীতির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়াতে হবে। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে সরকার উৎপাদনমুখী অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আলোচনায় র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, সরকারের ‘থ্রি আর’ (পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পুনর্গঠন) উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা না গেলে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব হবে না। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এনে যদি প্রবৃদ্ধির ওপর বেশি জোর দেয়া হয়, তাহলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
ড. রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে হলে প্রতিবছর নামমাত্র জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে নিতে হবে। তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও যথেষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে টাকার মান যাতে অতিরিক্ত অবমূল্যায়নের শিকার না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সর্বোচ্চ দক্ষতা দেখালেও আগামী অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি ঋণ সংগ্রহেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে সরকারকে।
সরকারি ঋণের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে ড. রাজ্জাক বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় সরকারের ঋণ বেড়েছে। এতে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে সরকারের সুদ পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা এনবিআর আদায়কৃত মোট রাজস্বের ৩৬ শতাংশের সমান। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে।





