স্পেন বধের পর মাকে সাথে নিয়ে উরুগুয়ে পরীক্ষায় ভোজিনহা

মা এসে গেছেন, স্পেন ম্যাচের নায়ক ভোজিনহার সামনে এবার উরুগুয়ে পরীক্ষা এই শিরোনামটা আরেকটু সুন্দর করে সাজিয়ে দাও

বিশ্বকাপের মঞ্চে এক আবেগঘন অধ্যায়ের নতুন পর্ব যুক্ত হলো কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহার জীবনে। স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নগুলোর একটি পূরণ হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন তার মা আনা ক্যান্ডিডা ইভোরা। ভিসা জটিলতার কারণে প্রথম ম্যাচে ছেলের খেলা দেখতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে চমক দেখায় কেপ ভার্দে। ওই ম্যাচে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে ম্যাচসেরা হন ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা। কিন্তু ম্যাচ শেষে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, তার মা গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি ভিসা না পাওয়ার কারণে।

তার সেই আবেগঘন কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা অনুমোদনের পর আনা ক্যান্ডিডা ইভোরা মিয়ামিতে এসে পৌঁছান। বিমানবন্দরে ফিফার অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডধারী কর্মীদের সঙ্গে করমর্দন করেন তিনি, মুখে ছিল সন্তানের খেলা দেখার আনন্দ।

এখন পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি সরাসরি টাম্পায় গিয়ে ছেলের সঙ্গে দেখা করবেন নাকি রবিবারের ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি গ্যালারিতে থাকবেন তা প্রায় নিশ্চিত।

স্পেনের বিপক্ষে সেই রাত ভোজিনহার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে তিনি কেপ ভার্দেকে ম্যাচে ধরে রাখেন। তবে ম্যাচ শেষে তার চোখের পানি এবং পরিবারের কথা তাকে আরও বেশি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে দেয়। তিনি জানান, দাদা দাদি আর বেঁচে নেই এবং মা উপস্থিত থাকতে না পারায় এই মুহূর্তটি তার জন্য ছিল আবেগঘন।

এই ঘটনার পর ফুটবল বিশ্বজুড়ে ভোজিনহাকে ঘিরে সহানুভূতি এবং ভালোবাসার ঢেউ তৈরি হয়। অনেকেই তার গল্পকে শুধু ফুটবল নয়, জীবনের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন।

এখন উরুগুয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যখন তিনি মাঠে নামবেন, তখন গ্যালারিতে থাকবে তার সবচেয়ে বড় সমর্থক তার মা। এই উপস্থিতি কেবল ব্যক্তিগত আবেগ নয়, বরং কেপ ভার্দের দলের জন্যও বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।