এক মিনিটের ব্যবধানে জোড়া বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা, কাঁপল জাপানও

এক মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুটি প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলা। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানও।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর এক ভয়াবহ রিপোর্টে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। হঠাৎ কেন এই জোড়া বিপর্যয়? ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই বা কী বার্তা দিলেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট?

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২, যার কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে।

এর ঠিক পরেই আঘাত হানে আরও বিধ্বংসী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি, যার উৎপত্তিস্থল ছিল মন্টালবান এলাকা থেকে ২৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।

দুর্ভাগ্যবশত, যেদিন এই বিপর্যয় ঘটে, সেদিন দেশটিতে জাতীয় ছুটি থাকায় সিংহভাগ মানুষই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তিতে তৈরি না হওয়ায় রাজধানী কারাকাস জুড়ে যেন তাশের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে একের পর এক বহুতল ভবন। বন্ধ হয়ে গেছে জ্বালানি সরবরাহ, আর ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে ভেসে আসছে শত শত মানুষের বাঁচার আকুতি!

দেশের এই চরম সংকটের মাঝে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে এক মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার সাবেক একনায়ক নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী আটক হয়ে বর্তমানে মার্কিন কারাগারে আছেন। এরপর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে দেশ চালাচ্ছেন রদ্রিগেজ। তিনি দেশের এই দুর্যোগে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার এই ভয়াবহ ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই কেঁপে ওঠে জাপানও।জাপানের উত্তর-পূর্বে কুজি থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে ভূগর্ভের ৫১.৭ কিলোমিটার গভীরে ৬.৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।

যদিও দেশটির মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পে কোনো সুনামির আশঙ্কা নেই এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোও সুরক্ষিত রয়েছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টোকিও ও শিন-আওমোরির মধ্যে চলাচলকারী বিখ্যাত বুলেট ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার অভিযান। ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে এখনো কত মানুষ আটকে আছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো এই বিপর্যয়কে চলতি দশকের অন্যতম বড় মানবিক সংকট হিসেবে দেখছে।