রোনালদোকে খেলানোই কি বিপদ ডেকে আনছে পর্তুগালের?

৪১ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উপস্থিতি বিস্ময় জাগায়! কিন্তু পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ কি তার সবচেয়ে বড় তারকাকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ব্যবহার করছেন? বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষে সেই প্রশ্নই এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।

কলম্বিয়ার বিপক্ষে আজ গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে শেষ বাঁশি পর্যন্ত মাঠে ছিলেন রোনালদো। অথচ ফ্লোরিডার তীব্র গরম ও আর্দ্রতায় ম্যাচের শেষ দিকে তাকে প্রায় চলাফেরা করতেই কষ্ট করতে দেখা যায়। পুরো ম্যাচে তাঁর প্রত্যাশিত গোল ছিল মাত্র ০.১৭ এবং প্রত্যাশিত অ্যাসিস্ট ০.০৩—যা তার প্রভাবহীন পারফরম্যান্সই তুলে ধরে।

এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগালের তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন রোনালদো। অতিরিক্ত সময় যোগ করলে তার খেলার সময় প্রায় ৩০০ মিনিট। অথচ নকআউট নিশ্চিত হওয়ার পরও তাকে বিশ্রাম দেননি মার্তিনেজ।

অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষ তারকাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল দেখা গেছে। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই বিশ্রাম দেন ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে। নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন ক্লান্তির কথা বিবেচনায় রেখে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলাননি আর্লিং হলান্ডকে। ইংল্যান্ডও পানামার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে হ্যারি কেইনকে তুলে নেয়।

কিন্তু মার্তিনেজ রোনালদোকে বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজন দেখছেন না। তার ভাষায়, ‘ক্রিশ্চিয়ানো মানসিক ও শারীরিকভাবে খুবই শক্তিশালী। ৯০ মিনিট খেলা তার জন্য কোনো সমস্যা নয়।’

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, বিষয়টি শুধু একটি ম্যাচের নয়; পুরো টুর্নামেন্টের। ২৫ বছর বয়সী গনসালো রামোসের মতো তরুণ স্ট্রাইকার বেঞ্চে বসে থাকলেও রোনালদোকে পুরো সময় খেলানোর সিদ্ধান্ত পর্তুগালের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

গ্রুপে শীর্ষস্থান হারিয়ে পর্তুগাল এখন শেষ ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে। সেই বাধা পেরোতে পারলেও সম্ভাব্য শেষ ষোলোতে অপেক্ষা করছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। নকআউটের কঠিন লড়াইয়ে ক্লান্ত রোনালদোকে নিয়ে মার্তিনেজের কৌশল কতটা সফল হবে, সেটিই এখন পর্তুগালের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।