রেকর্ড গোল ও নানা সমীকরণে শেষ হলো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব

রেকর্ডসংখ্যক দলের অংশগ্রহণে জমজমাট লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্ব। ১২টি গ্রুপে বিভক্ত ৪৮টি দলের নকআউট পর্বে যাওয়ার এই লড়াইয়ে এবার মাঠে গড়িয়েছে মোট ৭২টি ম্যাচ। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল এবং তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা আটটি দলসহ মোট ৩২টি দল জায়গা করে নিয়েছে পরবর্তী রাউন্ডে। মাঠের এই লড়াইয়ে গোল, হ্যাটট্রিক আর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বেশ কিছু চমকপ্রদ পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।

গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচে এবার সর্বমোট ২১৫টি গোল হয়েছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। এর মধ্যে বেশ কিছু ম্যাচে গোলবন্যা দেখা গেছে, যার শীর্ষ তালিকায় রয়েছে জার্মানি ও কুরাসাওয়ের ম্যাচটি। এই ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ ব্যবধানে পরাজিত করে। এ ছাড়া গ্রুপ পর্বে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০টি করে গোল আদায় করে নিয়েছে। বিপরীতে রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় স্পেন ও মেক্সিকো গ্রুপ পর্বে একটি গোলও হজম করেনি।

খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সবার ওপরে রয়েছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। মাত্র ৩ ম্যাচে ৬ গোল করে তিনি গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন, যার মধ্যে আলজেরিয়ার বিপক্ষে একটি হ্যাটট্রিকও রয়েছে। মেসির পাশাপাশি গ্রুপ পর্বে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন কানাডার জোনাথন ডেভিড এবং ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে। অন্যদিকে গোলদাতাদের তালিকায় ৪টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও আর্লিং হালান্ড।

গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও মেক্সিকো। এই দলগুলো তাদের তিনটি ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করেছে। গোলপোস্টের নিচে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করেছেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক ইলয় রুম, যিনি সর্বোচ্চ ২১টি সেভ করেছেন। অন্যদিকে বেলজিয়াম দল হিসেবে প্রতিপক্ষের গোল অভিমুখে সবচেয়ে বেশি ৭৩টি শট নিয়েছে। মাঠের এই তুমুল লড়াইয়ের মাঝে বিভিন্ন দলের ১০ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কাতার সর্বোচ্চ দুটি করে লাল কার্ড পেয়েছে।