২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পথচলা ছিল একেবারে নিখুঁত, রাজকীয়! তিন ম্যাচে তিন জয়, পূর্ণ ৯ পয়েন্ট এবং গ্রুপের শীর্ষস্থান সবকিছুই হয়েছে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের প্রত্যাশামতো।
আগামী ৪ঠা জুলাই নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসিরা মাঠে নামবেন এবারের আসরের অন্যতম বড় চমক কেপ ভার্দের বিপক্ষে। কিন্তু, এই চোখ ধাঁধানো সাফল্যের মাঝেই আর্জেন্টিনার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬ বছরের পুরোনো এক ভুতুড়ে পরিসংখ্যান।
এক অদ্ভুত ইতিহাস, যা মেসি ও স্কালোনির দলের জন্য মস্ত বড় এক সতর্কবার্তা। কী সেই ইতিহাস, যা শুনলে যেকোনো আর্জেন্টিনা ভক্তের বুক কেঁপে উঠবে? ফুটবল বিশ্বকাপে পরিসংখ্যান কখনো কখনো কেবল সংখ্যা থাকে না, হয়ে ওঠে মানসিক চাপের আরেক নাম।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত চারবার গ্রুপ পর্বের সব কটি ম্যাচ জিতে নিখুঁতভাবে নকআউটে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রতিবারই গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয় পাওয়া সেই পথ ধরে শেষ পর্যন্ত আর শিরোপা জেতা হয়নি আলবিসেলেস্তেদের।
১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স, মেক্সিকো ও চিলিকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শিরোপার শেষ লড়াইয়ে উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে জাপান, জ্যামাইকা ও ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ওঠে আর্জেন্টিনা। শেষ ১৬-তে ইংল্যান্ডকে বিদায় করলেও কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় তারা।
ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার কোচিংয়ে নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও গ্রিসকে হারিয়ে নিখুঁতভাবে শেষ ষোলোতে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু কোয়ার্টারে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলের সেই দুঃস্বপ্নের হারে শেষ হয় তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
আর সবশেষে ২০১৪ সালের ব্রাজিলের মাটিতে। বসনিয়া, ইরান ও নাইজেরিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয় পায় মেসির দল। একের পর এক ধাপ পেরিয়ে ফাইনালেও ওঠে তারা। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে সেই জার্মানির কাছেই গোল হজম করে ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন ভাঙার বেদনায় পুড়তে হয়েছিল লিওনেল মেসিকে।
অর্থাৎ, ইতিহাস বলছে, গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা যখনই সব ম্যাচ জিতেছে, ট্রফি আর তাদের ঘরে আসেনি। তবে এবারের ২০২৬ সালের লিওনেল স্কালোনির এই আর্জেন্টিনা দলটি কিন্তু সম্পূর্ণ অন্যরকম এক আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোচ্ছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর এই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো অভিজ্ঞতা এবং যেকোনো বড় ম্যাচের কঠিনতম চাপ সামলানোর ক্ষমতা।
স্কালোনির দল শুধু ফল নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও নিজেদের শক্তিমত্তা দেখিয়েছে। তাই এই পুরোনো পরিসংখ্যানকে তারা ভয় বা অন্ধবিশ্বাস হিসেবে দেখছে না বরং একে দেখছে নতুন ইতিহাস লেখার এক দুর্দান্ত প্রেরণা হিসেবে।
নকআউটের প্রথম ধাপে প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে তুলনামূলক কম পরিচিত হলেও, বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয় এই কঠোর বাস্তবতা ভালো করেই জানেন মেসিরা।





