বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেই থেমে গেল ব্রাজিলের যাত্রা। আজ নিউ জার্সির মাঠে শেষ বাঁশি বাজতেই হতাশায় ভেঙে পড়েন নেইমার। মাঠের মাঝখানেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন তিনি! কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকার পর চোখের জল আর আটকে রাখতে পারেননি। সতীর্থরা এগিয়ে এসে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মাঠজুড়ে!
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় নরওয়ে। ম্যাচে পেনাল্টিসহ একাধিক সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই ব্যর্থতাকেই পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন দলের অধিনায়ক মার্কিনিওস।
ম্যাচ শেষে হতাশ মার্কিনিওস বলেন, ‘দেখুন এই হার ব্যাখ্যা করা কঠিন। এমন সময়ে কথা বলাটাও কঠিন। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, এ ধরনের ম্যাচ খুব কঠিন হয়। প্রতিটি বলই গুরুত্বপূর্ণ। নরওয়ে তাদের পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছে। আমরা পেনাল্টিসহ যেসব সুযোগ পেয়েছি, তার অনেকগুলোই নষ্ট করেছি। বিশ্বকাপে যে দল কম ভুল করে, তারাই পরের ধাপে যায়।’
তিন বিশ্বকাপ খেলা এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হারের দায় স্বীকার করে সমর্থকদের কাছেও ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘আমি ব্রাজিলের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে চাই। যারা এখানে এসে আমাদের সমর্থন করেছেন, তাদের সবার কাছে। এখন আমি চাই, সবাই আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সমর্থন করুন। তাদের সামনে কাজ করার জন্য চার বছর সময় আছে।’
অধিনায়ক হিসেবে নিজের দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন মার্কিনিওস। তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে, আর সিনিয়র খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারে।’
সব মিলিয়ে ব্রাজিলের হতাশার গল্পটা দীর্ঘ হলো। টানা ছয় বিশ্বকাপে শিরোপাহীন থাকল ব্রাজিল। হেক্সা জয়ের স্বপ্নটা অধরাই থেকে গেল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের! এখন অপেক্ষা আরো চার বছরের।





