বিশ্বকাপের মঞ্চে আর দেখা যাবে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেই জানিয়ে দিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।
রোববার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকা বলেন, ‘আমি যতটা সম্ভব এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে চাই। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে আশা করি, স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ যেন আমার শেষ ম্যাচ না হয়।’
২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন রোনালদো। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—টানা ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। এবারের আসরে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলারও হয়েছেন।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন রোনালদো। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান তিনি।
রোনালদো বলেন, ‘এই বিশ্বকাপ আমার কাছে অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা। শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, মানুষের আবেগ-ভালোবাসার কারণেই এটি আমার স্মৃতিতে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নেবে। কেন জানি না, তবে আবেগের দিক থেকে এটিই আমার সেরা বিশ্বকাপ। আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি।’
বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও নিজের ক্যারিয়ার অসম্পূর্ণ থেকে যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
‘আমার জীবনে কোনো কিছুর অভাব নেই। বিশ্বকাপ জিতলে আমি বেশি কিছু হয়ে যাবো না, আর না জিতলেও কমে যাব না। অবশ্যই আমাদের শিরোপা জেতার সামর্থ্য আছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তো একটি দলই চ্যাম্পিয়ন হবে,’ বলেন রোনালদো।
জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েও কথা বলেন তিনি, ‘একদিন অবশ্যই সেই সময় আসবে। কিন্তু আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, আমি সম্পূর্ণ তৃপ্তি নিয়েই মাঠ ছাড়ব। আমি ফুটবলের জন্য আমার সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। আমি অর্থ বা খ্যাতির জন্য খেলি না, খেলি ভালোবাসা থেকে।’
সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নেওয়ার কথাও বলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা, ‘৪০ বছর পার হওয়ার পরও সমালোচনা শুনতে হয়। তবে আমি সেসবের জন্যও কৃতজ্ঞ। সমালোচনাই মানুষকে আরও পরিণত হতে শেখায়। গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করতে হয়, আর যেগুলো আপনাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য করা হয়, সেগুলো উপেক্ষা করতে শিখতে হয়।’
স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের প্রশংসাও করেন রোনালদো, ‘ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে আমি শুধু ইয়ামালকে নয়, পুরো স্পেন দলকেই দেখি। তারা দারুণ একটি দল। দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে প্রস্তুত থাকতে হবে, সমালোচনায় ভেঙে পড়া যাবে না। যাঁরা আপনাকে ভালোবাসেন, তাঁদের ভালোবাসা এবং নিজের কাজের প্রতি আবেগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
অন্যদিকে রোনালদোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
তিনি বলেন, ‘আমি ক্রিস্টিয়ানোর বড় ভক্ত। উচ্চাকাঙ্ক্ষা, চরিত্র, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করার মানসিকতা—তরুণদের জন্য সে একটি আদর্শ উদাহরণ।’
স্পেন কোচ আরও বলেন, ‘পুরো ম্যাচজুড়েই আমাদের ওর দিকে নজর রাখতে হবে। আলাদা করে একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সে যে জায়গায় খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, সেখানে তাকে এক মুহূর্তের জন্যও অবহেলা করা যাবে না। সেই জায়গাগুলোতে সে এখনো বিশ্বের অন্যতম সেরা।’





